ঢাকা ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

রাজনীতিকেরা ইতিহাস লিখলে মানুষের মূল্যায়ন হয় না

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৩ ২৪৭ বার পড়া হয়েছে

দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা না হওয়ায় অনেকেই অবহেলিত। এর কারণ জাতির প্রকৃত ইতিহাস লিখিত হয়নি। এখন ইতিহাস লিখছেন রাজনীতিকেরা। তাই মানুষের মূল্যায়ন হচ্ছে না।

রাষ্ট্রচিন্তা জার্নালের সম্পাদক ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান স্মরণসভায় আলোচকদের বক্তব্যে উঠে এল এসব কথা। শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এই সভা আয়োজন করে হাবিবুর রহমান স্মরণসভা আয়োজক কমিটি।
ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে দুঃশাসন চলছে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যে খেলা হচ্ছে, তার কারণ জাতির প্রকৃত ইতিহাস তৈরি হয়নি। এখন ইতিহাস লিখছেন রাজনীতিকেরা। তাই মানুষের মূল্যায়ন হচ্ছে না। ইতিহাসবিদেরা লিখলে সত্যিকারের ইতিহাস উঠে আসে এবং সে ইতিহাসে মানুষের মূল্যায়ন হয়।

দেশে যত দিন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক তালিকা হবে না, তত দিন পর্যন্ত হাবিবুর রহমানের মতো অনেক মুক্তিযোদ্ধাই অবহেলিত থাকবেন বলে উল্লেখ করেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অর্থের বিনিময়ে দেশে এখন অনেককে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয় বলেও শোনা যায়।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, হাবিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। এই সরকার তাঁকে স্বীকৃতি দেয়নি। অবশ্য এ সরকারকেই মানুষ এখন স্বীকৃতি দেয় না।
কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার বলেন, হাবিবুর রহমান ছিলেন ব্যতিক্রম। যত যা–ই হোক না কেন, তিনি কথা না বলে থাকতে পারতেন না। রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের উদ্দেশে বড় দলের পেছনে না ছুটে নিজেদের মধ্যে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, দেশে এখন বামপন্থীদের বিকল্প তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। কথা বলেই সত্যিকারের বিকল্প গড়ে তুলতে হবে।

দেশে একজনই মাত্র স্বাধীন ব্যক্তি উল্লেখ করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এ ব্যক্তি যা খুশি করতে পারেন, বলতে পারেন। কোনো আইন তাঁকে ছুঁতেও পারে না।
স্মরণসভার সভাপতি ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী হাসনাত কাইয়ুম। আর সঞ্চালনা করেন লেখক রাখাল রাহা। স্মরণসভায় প্রয়াত হাবিবুর রহমানের স্ত্রী ও সন্তান ছাড়াও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আল রাজী ও মোশরেকা অদিতি হক, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ আজম প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজনীতিকেরা ইতিহাস লিখলে মানুষের মূল্যায়ন হয় না

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৩

দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা না হওয়ায় অনেকেই অবহেলিত। এর কারণ জাতির প্রকৃত ইতিহাস লিখিত হয়নি। এখন ইতিহাস লিখছেন রাজনীতিকেরা। তাই মানুষের মূল্যায়ন হচ্ছে না।

রাষ্ট্রচিন্তা জার্নালের সম্পাদক ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান স্মরণসভায় আলোচকদের বক্তব্যে উঠে এল এসব কথা। শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এই সভা আয়োজন করে হাবিবুর রহমান স্মরণসভা আয়োজক কমিটি।
ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে দুঃশাসন চলছে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যে খেলা হচ্ছে, তার কারণ জাতির প্রকৃত ইতিহাস তৈরি হয়নি। এখন ইতিহাস লিখছেন রাজনীতিকেরা। তাই মানুষের মূল্যায়ন হচ্ছে না। ইতিহাসবিদেরা লিখলে সত্যিকারের ইতিহাস উঠে আসে এবং সে ইতিহাসে মানুষের মূল্যায়ন হয়।

দেশে যত দিন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক তালিকা হবে না, তত দিন পর্যন্ত হাবিবুর রহমানের মতো অনেক মুক্তিযোদ্ধাই অবহেলিত থাকবেন বলে উল্লেখ করেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অর্থের বিনিময়ে দেশে এখন অনেককে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয় বলেও শোনা যায়।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, হাবিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। এই সরকার তাঁকে স্বীকৃতি দেয়নি। অবশ্য এ সরকারকেই মানুষ এখন স্বীকৃতি দেয় না।
কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার বলেন, হাবিবুর রহমান ছিলেন ব্যতিক্রম। যত যা–ই হোক না কেন, তিনি কথা না বলে থাকতে পারতেন না। রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের উদ্দেশে বড় দলের পেছনে না ছুটে নিজেদের মধ্যে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, দেশে এখন বামপন্থীদের বিকল্প তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। কথা বলেই সত্যিকারের বিকল্প গড়ে তুলতে হবে।

দেশে একজনই মাত্র স্বাধীন ব্যক্তি উল্লেখ করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এ ব্যক্তি যা খুশি করতে পারেন, বলতে পারেন। কোনো আইন তাঁকে ছুঁতেও পারে না।
স্মরণসভার সভাপতি ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী হাসনাত কাইয়ুম। আর সঞ্চালনা করেন লেখক রাখাল রাহা। স্মরণসভায় প্রয়াত হাবিবুর রহমানের স্ত্রী ও সন্তান ছাড়াও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আল রাজী ও মোশরেকা অদিতি হক, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ আজম প্রমুখ।