ঢাকা ০২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

মিত্রদের মন খারাপ শরিকরাও হতাশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ৩০০ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টি ও শরিক দলগুলোর আসন সমঝোতা নিয়ে যুগান্তরের প্রধান খবর,মিত্রদের মন খারাপ শরিকরাও হতাশ।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দফায় দফায় বৈঠক ও আলোচনার পর শেষ মুহূর্তে জোট ও শরিকদের জন্য ৩২টি আসনে ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

এই আসন বণ্টন নিয়ে মন খারাপের সুর বইছে ১৪ দলীয় জোট শরিকদের মধ্যে। গতবারের চেয়ে আসন কমিয়ে এবার তিনটি দলকে মাত্র ছয়টি আসন দেওয়া হয়েছে।

আসন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবদারও কানে তোলেনি ক্ষমতাসীনরা। এতে চরম ক্ষুব্ধ শরিক দলের নেতারা।
অন্যদিকে জোট ও শরিকদের বাইরে নির্বাচনে আসা কয়েকটি ‘মিত্র’ দলেরও প্রত্যাশা ছিল আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতার।

কিন্তু তাদের সঙ্গেও শেষ পর্যন্ত আসন নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। ভোটের মাঠে থাকা ইসলামী দলগুলোর কিছু চাওয়া থাকলেও শেষ পর্যন্ত আশা পূরণ হয়নি।

বিএনপিবিহীন এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই ছিল কৌশলী ভূমিকায়।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে শরিক ও মিত্রদের আসন ছাড়ের বিষয়ে নানা হিসাবনিকাশ মিলিয়েছে দলটি।

তবে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে তারা শুরু থেকেই নমনীয় ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এবারের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দেখাতে আওয়ামী লীগ নানা কৌশল হাতে নিলেও অর্ধেক সংখ্যক আসনও ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ করা যাচ্ছে না।

প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর সারাদেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে ১০১টিতে লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। বাকি আসনে ভোট হতে যাচ্ছে অনেকটাই একতরফা।

এবার ২৭টি নিবন্ধিত দল অংশ নিলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

অন্তত ১১ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই স্বতন্ত্ররাই।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটসহ কট্টর ডানপন্থি ও কট্টর বামপন্থি হিসেবে পরিচিত একাধিক রাজনৈতিক দল এবারের নির্বাচন বর্জন করছে।

এই অবস্থায় কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে ধরে রাখছে তারা।

অবশ্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হিসাবে ৪৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৭টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ভোটের মাঠের চিত্র ভিন্ন।

কেননা ভোটের মাঠে যতটুকু প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা, তার সবটুকুই আওয়ামী লীগের স্থানীয় পদধারী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঘিরে।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে ২৬টিরও বেশি আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়ে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছে জাতীয় পার্টি।

তবে শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টার কারণে তারা ঢাকার একটি নির্বাচনী এলাকার আসনে নিজেদের প্রার্থীকে বসাতে পেরেছে, যিনি আওয়ামী লীগের সাথে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই উৎরে যেতে পারবেন।

গত দুই সপ্তাহ ধরে দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনার সময়, আওয়ামী লীগ ঢাকার ২০টি নির্বাচনী এলাকা থেকে তাদের কোনো প্রার্থী প্রত্যাহার করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিল।

শেষ মুহুর্তে, আওয়ামী লীগ ঢাকা-১৮তে মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিব হাসানকে ভোটের লড়াই থেকে সরিয়ে দিয়েছে যাতে জাতীয় পার্টির নেতা শেরিফ কাদেরের জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

তবে জাপা নেতারা এতোদিন ধরে বলে আসছিলেন যে তারা সংসদে মাত্র ২৬টি আসনের জন্য মীমাংসা করবেন না।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আরও নির্বাচনী এলাকা না দিলে জাপা নির্বাচনে অংশ নেবে না বলেও জানিয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত নানা নাটকীয়তার পর সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু ঘোষণা দিয়েছনে যে তার দল সব বাধা অতিক্রম করেছে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মিত্রদের মন খারাপ শরিকরাও হতাশ

আপডেট সময় : ১১:১৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩

আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টি ও শরিক দলগুলোর আসন সমঝোতা নিয়ে যুগান্তরের প্রধান খবর,মিত্রদের মন খারাপ শরিকরাও হতাশ।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দফায় দফায় বৈঠক ও আলোচনার পর শেষ মুহূর্তে জোট ও শরিকদের জন্য ৩২টি আসনে ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

এই আসন বণ্টন নিয়ে মন খারাপের সুর বইছে ১৪ দলীয় জোট শরিকদের মধ্যে। গতবারের চেয়ে আসন কমিয়ে এবার তিনটি দলকে মাত্র ছয়টি আসন দেওয়া হয়েছে।

আসন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবদারও কানে তোলেনি ক্ষমতাসীনরা। এতে চরম ক্ষুব্ধ শরিক দলের নেতারা।
অন্যদিকে জোট ও শরিকদের বাইরে নির্বাচনে আসা কয়েকটি ‘মিত্র’ দলেরও প্রত্যাশা ছিল আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতার।

কিন্তু তাদের সঙ্গেও শেষ পর্যন্ত আসন নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। ভোটের মাঠে থাকা ইসলামী দলগুলোর কিছু চাওয়া থাকলেও শেষ পর্যন্ত আশা পূরণ হয়নি।

বিএনপিবিহীন এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই ছিল কৌশলী ভূমিকায়।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে শরিক ও মিত্রদের আসন ছাড়ের বিষয়ে নানা হিসাবনিকাশ মিলিয়েছে দলটি।

তবে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে তারা শুরু থেকেই নমনীয় ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এবারের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দেখাতে আওয়ামী লীগ নানা কৌশল হাতে নিলেও অর্ধেক সংখ্যক আসনও ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ করা যাচ্ছে না।

প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর সারাদেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে ১০১টিতে লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। বাকি আসনে ভোট হতে যাচ্ছে অনেকটাই একতরফা।

এবার ২৭টি নিবন্ধিত দল অংশ নিলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

অন্তত ১১ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই স্বতন্ত্ররাই।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটসহ কট্টর ডানপন্থি ও কট্টর বামপন্থি হিসেবে পরিচিত একাধিক রাজনৈতিক দল এবারের নির্বাচন বর্জন করছে।

এই অবস্থায় কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে ধরে রাখছে তারা।

অবশ্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হিসাবে ৪৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৭টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ভোটের মাঠের চিত্র ভিন্ন।

কেননা ভোটের মাঠে যতটুকু প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা, তার সবটুকুই আওয়ামী লীগের স্থানীয় পদধারী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঘিরে।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে ২৬টিরও বেশি আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়ে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছে জাতীয় পার্টি।

তবে শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টার কারণে তারা ঢাকার একটি নির্বাচনী এলাকার আসনে নিজেদের প্রার্থীকে বসাতে পেরেছে, যিনি আওয়ামী লীগের সাথে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই উৎরে যেতে পারবেন।

গত দুই সপ্তাহ ধরে দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনার সময়, আওয়ামী লীগ ঢাকার ২০টি নির্বাচনী এলাকা থেকে তাদের কোনো প্রার্থী প্রত্যাহার করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিল।

শেষ মুহুর্তে, আওয়ামী লীগ ঢাকা-১৮তে মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিব হাসানকে ভোটের লড়াই থেকে সরিয়ে দিয়েছে যাতে জাতীয় পার্টির নেতা শেরিফ কাদেরের জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

তবে জাপা নেতারা এতোদিন ধরে বলে আসছিলেন যে তারা সংসদে মাত্র ২৬টি আসনের জন্য মীমাংসা করবেন না।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আরও নির্বাচনী এলাকা না দিলে জাপা নির্বাচনে অংশ নেবে না বলেও জানিয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত নানা নাটকীয়তার পর সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু ঘোষণা দিয়েছনে যে তার দল সব বাধা অতিক্রম করেছে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।