ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

বিরামপুরের কাটলা ইউনিয়ন মুদিদোকানে চলছে ডাকঘরের কার্যক্রম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১২০ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়ন পরিষদের পুরোনো ভবনের একটি ছোট কক্ষে ছিল সাব-পোস্ট অফিসের কার্যক্রম। ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় সেখান থেকে ডাকঘরের কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়া হয়। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ওই ভবনের পাশে নিজ মুদিদোকানে ডাকঘরের কাজ সারছেন তমিজ উদ্দিন। তিনি অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া সাব-পোস্টমাস্টার (ইডিএ)।

২০০০ সালে কাটলা ইউনিয়নের সাব-পোস্ট অফিসে এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল এজেন্ট (ইডিএ) হিসেবে নিয়োগ পান তমিজ উদ্দিন। ডাক বিভাগ থেকে তিনি মাসে ৪ হাজার ৪৬০ টাকা করে ভাতা পান। এই ভাতা নিয়ে কোনোমতে ডাকঘরটির কার্যক্রমকে টিকিয়ে রেখেছেন তিনি।

তাঁর সঙ্গে আছেন এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল ডেলিভারি এজেন্ট (ইডিডিএ) ফরিদ হোসেন। স্থানীয়ভাবে তাঁকে ‘ডাকপিয়ন’ বলা হয়। তিনি মাসে ৪ হাজার ৩৫৪ টাকা করে ভাতা পান। আর একজন আছেন এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল মেইল ক্যারিয়ার (ইডিএমসি) হামিদুল ইসলাম। স্থানীয়ভাবে তাঁকে ‘রানার’ বলা হয়ে থাকে। তিনি মাসে ৪ হাজার ১৭৭ টাকা করে ভাতা পান।
কাটলা সাব-পোস্ট অফিসের উত্তরের দেয়ালঘেঁষা জায়গায় রয়েছে একটি কবরস্থান। দরজার সামনে পুরোনো ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের প্রবেশপথ। এর সামনেই বাজারের সাধারণ মানুষের জন্য রয়েছে জনস্বাস্থ্য দপ্তরের দেওয়া একটি নলকূপ। আর নলকূপের সামনে প্রতিদিন থাকে ইউনিয়ন পরিষদের দাপ্তরিক কাজে আসা ব্যক্তিদের পাঁচ থেকে ছয়টি মোটরসাইকেল। সব মিলিয়ে সাব-পোস্ট অফিসটি এখন প্রায় অচল। ফলে ডাকঘরের কাজ সারতে মানুষকে যেতে হয় তমিজ উদ্দিনের মুদিদোকানে।

তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি ২৩ বছর ধরে কাটলা সাব-পোস্ট অফিসে চাকরি করছি। প্রায় ১২ বছর ধরে পোস্ট অফিসের ছাদের নিচের পলেস্তারা একটু একটু করে খসে পড়ছে। কখনো মাথায় পড়ে, আবার কখনো টেবিলের ওপরে পড়ে। সরকার থেকে নতুন ভবন করতে হলে পোস্ট অফিসের নামে তিন শতক জমি থাকতে হয়। এ বিষয়ে দুজন ইউপি চেয়ারম্যানকে বলেছিলাম, কোনো কাজ হয়নি। বাজারের মধ্যে বা আশপাশে তিন শতক জমি দান করার মতো ব্যক্তি পাওয়াও অনেক কঠিন। এ কারণে পোস্ট অফিসের নতুন ভবনের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।’

পাঁচ বছর আগে ডাক বিভাগের পোস্ট ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাটলা সাব-পোস্ট অফিসে একটি করে ল্যাপটপ, স্ক্যানার ও ফটো প্রিন্টার দেওয়া হয়েছিল।
সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল না থাকায় ও জরাজীর্ণ পোস্ট অফিসের কক্ষে রাখা নিরাপদ না হওয়ায় পোস্ট মাস্টার তমিজ উদ্দিন সেগুলো এখন তাঁর বাড়িতে রেখেছেন। এ সম্পর্কে তমিজ উদ্দিন বলেন, যন্ত্রগুলোর মধ্যে প্রিন্টার নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি দুটো যন্ত্র ব্যবহার না করার কারণে নষ্ট হওয়ার পথে।

উপজেলা পোস্টমাস্টার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিটি পোস্ট অফিসে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে পোস্ট ই-সেন্টার চালু করতে কয়েক বছর আগে ল্যাপটপ, ফটোকপি মেশিন, স্ক্যানার ও প্রিন্টার দেওয়া হয়েছে। এসব পরিচালনার জন্য প্রকল্প থেকে একজন লোকও নিয়োগ করা হয়েছিল। আর এসব কার্যক্রম একজন পোস্ট অফিস পরিদর্শক (আইপিও) নিয়মিত তদারক করে থাকেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিরামপুরের কাটলা ইউনিয়ন মুদিদোকানে চলছে ডাকঘরের কার্যক্রম

আপডেট সময় : ০৬:১৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়ন পরিষদের পুরোনো ভবনের একটি ছোট কক্ষে ছিল সাব-পোস্ট অফিসের কার্যক্রম। ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় সেখান থেকে ডাকঘরের কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়া হয়। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ওই ভবনের পাশে নিজ মুদিদোকানে ডাকঘরের কাজ সারছেন তমিজ উদ্দিন। তিনি অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া সাব-পোস্টমাস্টার (ইডিএ)।

২০০০ সালে কাটলা ইউনিয়নের সাব-পোস্ট অফিসে এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল এজেন্ট (ইডিএ) হিসেবে নিয়োগ পান তমিজ উদ্দিন। ডাক বিভাগ থেকে তিনি মাসে ৪ হাজার ৪৬০ টাকা করে ভাতা পান। এই ভাতা নিয়ে কোনোমতে ডাকঘরটির কার্যক্রমকে টিকিয়ে রেখেছেন তিনি।

তাঁর সঙ্গে আছেন এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল ডেলিভারি এজেন্ট (ইডিডিএ) ফরিদ হোসেন। স্থানীয়ভাবে তাঁকে ‘ডাকপিয়ন’ বলা হয়। তিনি মাসে ৪ হাজার ৩৫৪ টাকা করে ভাতা পান। আর একজন আছেন এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল মেইল ক্যারিয়ার (ইডিএমসি) হামিদুল ইসলাম। স্থানীয়ভাবে তাঁকে ‘রানার’ বলা হয়ে থাকে। তিনি মাসে ৪ হাজার ১৭৭ টাকা করে ভাতা পান।
কাটলা সাব-পোস্ট অফিসের উত্তরের দেয়ালঘেঁষা জায়গায় রয়েছে একটি কবরস্থান। দরজার সামনে পুরোনো ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের প্রবেশপথ। এর সামনেই বাজারের সাধারণ মানুষের জন্য রয়েছে জনস্বাস্থ্য দপ্তরের দেওয়া একটি নলকূপ। আর নলকূপের সামনে প্রতিদিন থাকে ইউনিয়ন পরিষদের দাপ্তরিক কাজে আসা ব্যক্তিদের পাঁচ থেকে ছয়টি মোটরসাইকেল। সব মিলিয়ে সাব-পোস্ট অফিসটি এখন প্রায় অচল। ফলে ডাকঘরের কাজ সারতে মানুষকে যেতে হয় তমিজ উদ্দিনের মুদিদোকানে।

তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি ২৩ বছর ধরে কাটলা সাব-পোস্ট অফিসে চাকরি করছি। প্রায় ১২ বছর ধরে পোস্ট অফিসের ছাদের নিচের পলেস্তারা একটু একটু করে খসে পড়ছে। কখনো মাথায় পড়ে, আবার কখনো টেবিলের ওপরে পড়ে। সরকার থেকে নতুন ভবন করতে হলে পোস্ট অফিসের নামে তিন শতক জমি থাকতে হয়। এ বিষয়ে দুজন ইউপি চেয়ারম্যানকে বলেছিলাম, কোনো কাজ হয়নি। বাজারের মধ্যে বা আশপাশে তিন শতক জমি দান করার মতো ব্যক্তি পাওয়াও অনেক কঠিন। এ কারণে পোস্ট অফিসের নতুন ভবনের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।’

পাঁচ বছর আগে ডাক বিভাগের পোস্ট ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাটলা সাব-পোস্ট অফিসে একটি করে ল্যাপটপ, স্ক্যানার ও ফটো প্রিন্টার দেওয়া হয়েছিল।
সেগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল না থাকায় ও জরাজীর্ণ পোস্ট অফিসের কক্ষে রাখা নিরাপদ না হওয়ায় পোস্ট মাস্টার তমিজ উদ্দিন সেগুলো এখন তাঁর বাড়িতে রেখেছেন। এ সম্পর্কে তমিজ উদ্দিন বলেন, যন্ত্রগুলোর মধ্যে প্রিন্টার নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি দুটো যন্ত্র ব্যবহার না করার কারণে নষ্ট হওয়ার পথে।

উপজেলা পোস্টমাস্টার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিটি পোস্ট অফিসে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে পোস্ট ই-সেন্টার চালু করতে কয়েক বছর আগে ল্যাপটপ, ফটোকপি মেশিন, স্ক্যানার ও প্রিন্টার দেওয়া হয়েছে। এসব পরিচালনার জন্য প্রকল্প থেকে একজন লোকও নিয়োগ করা হয়েছিল। আর এসব কার্যক্রম একজন পোস্ট অফিস পরিদর্শক (আইপিও) নিয়মিত তদারক করে থাকেন।