ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

বাংলাদেশ-মিয়ানমারের জলসীমায় নিয়ে ফেরত দেয়া হবে বার্মিজ সৈন্যদের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ১৮ বার পড়া হয়েছে

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সীমান্ত রক্ষীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বৃহস্পতিবার। বিজিবি জানিয়েছে, মিয়ারমার বর্ডার গার্ড পুলিশসহ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মোট ৩৩০ জনকে হস্তান্তর করা হবে এক সাথেই।

বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বা বিজিবি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ৩৩০ জনকে হস্তান্তরে সব প্রক্রিয়া প্রায় শেষ।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া এসব বার্মিজ সৈন্যদের রাখা হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ ও বান্দরবনের ঘুমধুমের দুটি স্কুলে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই তাদের হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

পালিয়ে আসা এসব বার্মিজ সৈন্যদের পরিচয় সনাক্তে এরই মধ্যে তাদের বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ জানাচ্ছে, হস্তান্তরের পুরো বিষয়টির নেতৃত্ব দিবে বিজিবি। কক্সবাজারের ইনানীর নৌবাহিনীর ঘাটে যে আনুষ্ঠানিকতা হবে বাংলাদেশসহ দুই দেশের প্রতিনিধিরাই থাকবে।
যেভাবে সম্পন্ন হবে পুরো প্রক্রিয়া
বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর সাথে যুদ্ধে টিকতে না পারে গত ৪ঠা থেকে ৮ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে উখিয়া, টেকনাফ ও ঘুমধুম সীমান্ত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে মিয়ানমারের ৩৩০ জন। হাতে গোনা কয়েকজন বাদে বেশিরভাগই ছিলও মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের সদস্য।

তাদের মধ্যে ১৬০ জন বিজিপি সদস্যকে রাখা হয়েছে বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ে। অপর দলকে রাখা হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ে।

এখন পর্যন্ত বিজিবির পরিকল্পনা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিজিবির ও পুলিশের টিম যাবে টেকনাফের হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে অবস্থানরত বার্মিজ সৈন্যদের বিজিবির গাড়িতে করে নিয়ে আসা হবে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে।

পরে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৬৬ জনকে তোলা বিজিবির গাড়িতে। পরে দুটো গ্রুপকে পুলিশ ও বিজিবির কড়া পাহারায় নিয়ে যাওয়া হবে কক্সবাজারের ইনানী বিচ এলাকার নৌবাহিনীর জেটিতে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বলেন, “পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বিজিবি আমাদের যে যে ধরনের সহযোগিতা চাইবে আমরা সব ধরনের সহযোগিতাই করবো বিজিবিকে। এটা আমাদের প্রটোকলেই বলা রয়েছে।

ইনানীর এই নৌবাহিনীর জেটি ঘাট এলাকায় হস্তান্তর কার্যক্রমের কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। সেখানে বিজিবি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সেখান থেকে বাংলাদেশি জাহাজে করে ৩৩০ জনকে তোলা হবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ কর্ণফুলীতে। সেখানে পুরো নিরাপত্তা বজায় রেখে তাদের কর্ণফুলী জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া হবে বাংলাদেশে মিয়ানমারের জলসীমায়।

এই জলসীমায় মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে দেয়া হবে বার্মিজ সৈন্য ও ঐ দেশ থেকে আসা নাগরিকদের।

সংগ্রহ করা হয়েছে ফিঙ্গার প্রিন্ট
বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর পালিয়ে আসা বার্মিজ সৈন্য ও সে দেশটির ৩৩০ জন নাগরিকদের তালিকা আগে থেকেই প্রস্তুত করেছিলো বিজিবি।

তাদের মধ্যে ৩২৬ জনকে রাখা হয়েছিলো কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয় ও নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ে। বাকি চারজনের চিকিৎসা চলছিলো চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

তাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে ঐসব নাগরিকদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ফিঙ্গার প্রিন্ট গত রবি ও সোমবার সংগ্রহ করে রাখে স্থানীয় প্রশাসন। কক্সবাজার পাসপোর্ট কার্যালয়ের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহকারীরা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে এই ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করে।

তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহের পর সেগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে জেলা প্রশাসন ও বিজিবিকে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান জানান, “আশ্রিত বিজিপি সদস্যদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে”।

বাংলাদেশে পালিয়ে মিয়ানমারের এসব সৈন্যদের দেশে পাঠাতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বলেন, “সার্বিক ব্যবস্থা করেছে বিজিবি। এই প্লানিংটাও ওনাদের। বিজিবি আমাদেরকে যে ধরনের সাপোর্ট চাইবে সে অনুযায়ী আমরা সেই সাপোর্টগুলো দিবো”।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডিবির হারুন বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং সদস্যদের সঙ্গে জড়িত ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছৈ। তাদের গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওয়ারী ও গুলশান বিভাগ। গ্রেফতারদের মধ্যে বেশিরভাগ কিশোর গ্যাং সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে। তিনি জানান, গ্রেফতাররা বাড্ডা, ভাটারা, তুরাগ, তিনশ ফিট ও যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় টার্গেট করা ব্যক্তিদের ইভটিজিং বা কোনো সময় ধাক্কা দেওয়ার ছলে উত্ত্যক্ত করত। এরপর তারা ঘেরাও করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোবাইলফোন এবং নারীদের কাছ থেকে সোনার অলঙ্কার ছিনিয়ে নিত। এ ছাড়া তারা ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও চুরির সঙ্গে জড়িত। এসব গ্যাং সদস্য মাদক কারবারের সঙ্গেও জড়িত। ডিবি হারুন জানান, গ্রেফতার কিশোর গ্যাং সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে কিছু কথিত বড় ভাইয়ের নাম পাওয়া গেছে। বড় ভাইদেরও গ্রেফতার করা হবে। কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে ডিবির প্রতিটি টিম কাজ করছে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমারের জলসীমায় নিয়ে ফেরত দেয়া হবে বার্মিজ সৈন্যদের

আপডেট সময় : ০৫:৩১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সীমান্ত রক্ষীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বৃহস্পতিবার। বিজিবি জানিয়েছে, মিয়ারমার বর্ডার গার্ড পুলিশসহ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মোট ৩৩০ জনকে হস্তান্তর করা হবে এক সাথেই।

বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বা বিজিবি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ৩৩০ জনকে হস্তান্তরে সব প্রক্রিয়া প্রায় শেষ।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া এসব বার্মিজ সৈন্যদের রাখা হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ ও বান্দরবনের ঘুমধুমের দুটি স্কুলে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই তাদের হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

পালিয়ে আসা এসব বার্মিজ সৈন্যদের পরিচয় সনাক্তে এরই মধ্যে তাদের বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ জানাচ্ছে, হস্তান্তরের পুরো বিষয়টির নেতৃত্ব দিবে বিজিবি। কক্সবাজারের ইনানীর নৌবাহিনীর ঘাটে যে আনুষ্ঠানিকতা হবে বাংলাদেশসহ দুই দেশের প্রতিনিধিরাই থাকবে।
যেভাবে সম্পন্ন হবে পুরো প্রক্রিয়া
বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর সাথে যুদ্ধে টিকতে না পারে গত ৪ঠা থেকে ৮ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে উখিয়া, টেকনাফ ও ঘুমধুম সীমান্ত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে মিয়ানমারের ৩৩০ জন। হাতে গোনা কয়েকজন বাদে বেশিরভাগই ছিলও মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের সদস্য।

তাদের মধ্যে ১৬০ জন বিজিপি সদস্যকে রাখা হয়েছে বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ে। অপর দলকে রাখা হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ে।

এখন পর্যন্ত বিজিবির পরিকল্পনা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিজিবির ও পুলিশের টিম যাবে টেকনাফের হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে অবস্থানরত বার্মিজ সৈন্যদের বিজিবির গাড়িতে করে নিয়ে আসা হবে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে।

পরে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৬৬ জনকে তোলা বিজিবির গাড়িতে। পরে দুটো গ্রুপকে পুলিশ ও বিজিবির কড়া পাহারায় নিয়ে যাওয়া হবে কক্সবাজারের ইনানী বিচ এলাকার নৌবাহিনীর জেটিতে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বলেন, “পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বিজিবি আমাদের যে যে ধরনের সহযোগিতা চাইবে আমরা সব ধরনের সহযোগিতাই করবো বিজিবিকে। এটা আমাদের প্রটোকলেই বলা রয়েছে।

ইনানীর এই নৌবাহিনীর জেটি ঘাট এলাকায় হস্তান্তর কার্যক্রমের কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। সেখানে বিজিবি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সেখান থেকে বাংলাদেশি জাহাজে করে ৩৩০ জনকে তোলা হবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ কর্ণফুলীতে। সেখানে পুরো নিরাপত্তা বজায় রেখে তাদের কর্ণফুলী জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া হবে বাংলাদেশে মিয়ানমারের জলসীমায়।

এই জলসীমায় মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে দেয়া হবে বার্মিজ সৈন্য ও ঐ দেশ থেকে আসা নাগরিকদের।

সংগ্রহ করা হয়েছে ফিঙ্গার প্রিন্ট
বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর পালিয়ে আসা বার্মিজ সৈন্য ও সে দেশটির ৩৩০ জন নাগরিকদের তালিকা আগে থেকেই প্রস্তুত করেছিলো বিজিবি।

তাদের মধ্যে ৩২৬ জনকে রাখা হয়েছিলো কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয় ও নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ে। বাকি চারজনের চিকিৎসা চলছিলো চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

তাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে ঐসব নাগরিকদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ফিঙ্গার প্রিন্ট গত রবি ও সোমবার সংগ্রহ করে রাখে স্থানীয় প্রশাসন। কক্সবাজার পাসপোর্ট কার্যালয়ের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহকারীরা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে এই ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করে।

তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহের পর সেগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে জেলা প্রশাসন ও বিজিবিকে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান জানান, “আশ্রিত বিজিপি সদস্যদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে”।

বাংলাদেশে পালিয়ে মিয়ানমারের এসব সৈন্যদের দেশে পাঠাতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বলেন, “সার্বিক ব্যবস্থা করেছে বিজিবি। এই প্লানিংটাও ওনাদের। বিজিবি আমাদেরকে যে ধরনের সাপোর্ট চাইবে সে অনুযায়ী আমরা সেই সাপোর্টগুলো দিবো”।