ঢাকা ১২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

বাংলাদেশে ৫ যুগের ইতিহাসে রেকর্ড লবণ উৎপাদন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই কক্সবাজারে চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন করেছে প্রান্তিক চাষিরা। এ পর্যন্ত ২৩ লাখ ৩১ হাজার টন লবণ উৎপাদন করেছে তারা, যা ৬৪ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড। গেল দুই মাস ধরে চলা তীব্র দাবদাহের কারণে উৎপাদন বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া।

চাষিরা বলছেন, মৌসুম শুরুর সময় লবণের যে দাম পাওয়া গেছে এখন তা নেই। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে সামনের দিনগুলোতে স্বয়ংসম্পূর্ণ এ শিল্পে আরও বেশি ঝুঁকবে চাষিরা।

বিসিক কক্সবাজার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার টেকনাফ, কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও, চকরিয়া, কুতুবদিয়া ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ৬৮ হাজার ৩০০ একর জমিতে লবণ চাষ হচ্ছে। এবার লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়, ২৫ লাখ ২৮ হাজার টন। এরই মধ্যে উৎপাদন হয়েছে ২৩ লাখ ৩১ হাজার টন, যা অতীতের সব ইতিহাসকে পেছনে ফেলেছে। গত বছর ৬৬ হাজার ৪২৪ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছিল ২২ লাখ ৩৩ টন। চলতি মৌসুমে লবণ চাষির সংখ্যা ৪০ হাজার ৭০০ জন, যা গত বছর ছিল ৩৯ হাজার ৪০০ জন। ফলে গেল বছরের তুলনায় এ বছর লবণ চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এক হাজার ৩০০ জন। ঈদগাঁওর গোমাতলী এলাকার লবণচাষি রিদুয়ানুল হক বলেন, এবার মৌসুম শুরুর পর থেকে প্রকৃতিতে বৃষ্টি নেই বললেই চলে। এর বিপরীতে বহমান ছিল তীব্র রোদ। ফলে লবণ উৎপাদন বেশি হয়েছে।

খুরুশকুলের রাস্তারপাড়ার লবণচাষি বেলাল আহমদ বলেন, জমির ইজারা, পলিথিন ও শ্রমিকের মূল্য চড়া হলেও লবণ উৎপাদন বেশি হওয়ায় লোকসানের হাত থেকে বাঁচবে চাষিরা। তবে মৌসুমের শুরুতে লবণের দাম ভালো থাকলেও উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম এখন দাম নিম্নগামী। এভাবে চললে শেষমেশ লোকসান গুনতে হবে।

বাংলাদেশ লবণচাষি পরিষদের আহ্বায়ক সাজেদুল করিম বলেন, এ বছর চাষিরা রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন করেছে। গত কয়েক বছর আমদানি বন্ধ থাকা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ায় চাষিরা লবণ উৎপাদন বাড়াতে আন্তরিকভাবে শ্রম ব্যয় করেছে। আমাদের প্রত্যাশা দেশের স্বয়ং সম্পূর্ণ শিল্পটি বাঁচিয়ে রাখতে চাষিরা এবারও ন্যায্যমূল্য পাবে।

বিসিক লবণ উন্নয়ন প্রকল্পের মাঠ পরিদর্শক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, দেশে ১৯৬০ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে লবণ উৎপাদন হচ্ছে। গত ৬৪ বছরের ইতিহাসে এত বেশি পরিমাণ লবণ উৎপাদন হয়নি। এবার দৈনিক গড় উৎপাদনও হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ। আগে যেখানে দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ ৩৬ হাজার টন লবণ উৎপাদন হয়েছে, সেখানে এবার দৈনিক গড়ে ৩৯ হাজার টন উৎপাদন হয়েছে।

বিসিকের কক্সবাজার লবণ শিল্পের উন্নয়ন কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, আবহাওয়া ঠিকঠাক থাকলে বা বৃষ্টিপাত না হলে মৌসুমের শেষ সময় পর্যন্ত আরও প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টন উৎপাদন হতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। তিনি বলেন, রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হওয়ায় লবণ আমদানি নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশে ৫ যুগের ইতিহাসে রেকর্ড লবণ উৎপাদন

আপডেট সময় : ১১:১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই কক্সবাজারে চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন করেছে প্রান্তিক চাষিরা। এ পর্যন্ত ২৩ লাখ ৩১ হাজার টন লবণ উৎপাদন করেছে তারা, যা ৬৪ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড। গেল দুই মাস ধরে চলা তীব্র দাবদাহের কারণে উৎপাদন বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া।

চাষিরা বলছেন, মৌসুম শুরুর সময় লবণের যে দাম পাওয়া গেছে এখন তা নেই। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে সামনের দিনগুলোতে স্বয়ংসম্পূর্ণ এ শিল্পে আরও বেশি ঝুঁকবে চাষিরা।

বিসিক কক্সবাজার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার টেকনাফ, কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও, চকরিয়া, কুতুবদিয়া ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ৬৮ হাজার ৩০০ একর জমিতে লবণ চাষ হচ্ছে। এবার লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়, ২৫ লাখ ২৮ হাজার টন। এরই মধ্যে উৎপাদন হয়েছে ২৩ লাখ ৩১ হাজার টন, যা অতীতের সব ইতিহাসকে পেছনে ফেলেছে। গত বছর ৬৬ হাজার ৪২৪ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছিল ২২ লাখ ৩৩ টন। চলতি মৌসুমে লবণ চাষির সংখ্যা ৪০ হাজার ৭০০ জন, যা গত বছর ছিল ৩৯ হাজার ৪০০ জন। ফলে গেল বছরের তুলনায় এ বছর লবণ চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এক হাজার ৩০০ জন। ঈদগাঁওর গোমাতলী এলাকার লবণচাষি রিদুয়ানুল হক বলেন, এবার মৌসুম শুরুর পর থেকে প্রকৃতিতে বৃষ্টি নেই বললেই চলে। এর বিপরীতে বহমান ছিল তীব্র রোদ। ফলে লবণ উৎপাদন বেশি হয়েছে।

খুরুশকুলের রাস্তারপাড়ার লবণচাষি বেলাল আহমদ বলেন, জমির ইজারা, পলিথিন ও শ্রমিকের মূল্য চড়া হলেও লবণ উৎপাদন বেশি হওয়ায় লোকসানের হাত থেকে বাঁচবে চাষিরা। তবে মৌসুমের শুরুতে লবণের দাম ভালো থাকলেও উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম এখন দাম নিম্নগামী। এভাবে চললে শেষমেশ লোকসান গুনতে হবে।

বাংলাদেশ লবণচাষি পরিষদের আহ্বায়ক সাজেদুল করিম বলেন, এ বছর চাষিরা রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন করেছে। গত কয়েক বছর আমদানি বন্ধ থাকা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ায় চাষিরা লবণ উৎপাদন বাড়াতে আন্তরিকভাবে শ্রম ব্যয় করেছে। আমাদের প্রত্যাশা দেশের স্বয়ং সম্পূর্ণ শিল্পটি বাঁচিয়ে রাখতে চাষিরা এবারও ন্যায্যমূল্য পাবে।

বিসিক লবণ উন্নয়ন প্রকল্পের মাঠ পরিদর্শক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, দেশে ১৯৬০ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে লবণ উৎপাদন হচ্ছে। গত ৬৪ বছরের ইতিহাসে এত বেশি পরিমাণ লবণ উৎপাদন হয়নি। এবার দৈনিক গড় উৎপাদনও হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ। আগে যেখানে দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ ৩৬ হাজার টন লবণ উৎপাদন হয়েছে, সেখানে এবার দৈনিক গড়ে ৩৯ হাজার টন উৎপাদন হয়েছে।

বিসিকের কক্সবাজার লবণ শিল্পের উন্নয়ন কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, আবহাওয়া ঠিকঠাক থাকলে বা বৃষ্টিপাত না হলে মৌসুমের শেষ সময় পর্যন্ত আরও প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টন উৎপাদন হতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। তিনি বলেন, রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হওয়ায় লবণ আমদানি নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে না।