ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

প্রযুক্তির আসক্তি এড়াতে দেশজুড়ে নীরবে বই পড়ছেন সরব পাঠক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৪ ২২৫ বার পড়া হয়েছে

ফুলের বাগান, পুকুরপাড় অথবা কোনো পুরোনো ঐতিহাসিক বাড়ির সামনের খোলা চত্বরে জড়ো হচ্ছেন কিছু মানুষ। সপ্তাহে এক দিন বিকেলে তাঁরা আসছেন। শর্ত একটাই, শব্দ না করে কিছুক্ষণ বই পড়তে হবে। এখানে বই পড়ার জন্য নির্ধারিত কোনো বিষয়বস্তু নেই। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, গবেষণাপত্র; যাঁর যা ইচ্ছা তা–ই পড়তে পারবেন। তবে ওই সময় মুঠোফোন খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এটা নিজের জন্য এবং পাশের অন্য পাঠকের জন্যও।

সাত মাস ধরে বাংলাদেশে চলছে এই নীরবে বই পড়া কার্যক্রম। ডিজিটাল বিপণন প্রতিষ্ঠান ট্র্যাশ বক্স লিমিটেডের ‘ভলান্টিয়ার অপরচুনিটিজ’ কার্যক্রমের একটি উদ্যোগ ‘বাংলাদেশ রিডস’, যেটাকে সহজে বলা হচ্ছে নীরবে বই পড়া কর্মসূচি। ২০২৩ সালে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে এই আয়োজন। ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী। রাজধানীর পাশাপাশি এখন দেশের আরও ৩২ জেলায় চলছে নীরব বই পড়ার অভিযান।

ব্যাপারটা অভিযানই বটে। প্রযুক্তির ক্ষতিকর দিকের বিরুদ্ধে মননশীলতা চর্চার অভিযান এই নীরবে বই পড়া কর্মসূচি। ছুটির দিন বিকেলে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় চলছে এ বই পড়া। আয়োজকেরা জানালেন, ২০২৪ সালের লক্ষ্য হচ্ছে, দেশের ৬৪ জেলায় বই পড়ার কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া। মূলত প্রযুক্তির খারাপ দিকগুলোর ক্ষতি এড়িয়ে মানসিক বিকাশে গুরুত্ব দেওয়াই মূল লক্ষ্য। নীরবে বই পড়া কার্যক্রমের অন্যতম দুজন উদ্যোক্তা মিথুন দাস আর রাইয়ান জহির।
মিথুন দাস ট্র্যাশ বক্স লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর রাইয়ান বেসরকারি চাকরিজীবী। দুজনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব।
মিথুন দাস প্রথম আলোকে বললেন, ‘এখনো কোনো ফান্ড বা সহযোগী সংগঠনকে যুক্ত করা হয়নি কার্যক্রমের সঙ্গে। অন্যতম কারণ, কোনো সংস্থা, প্রতিষ্ঠান যেন নিজেদের পণ্যের প্রচার করে আমাদের এ উদ্যোগ ব্যাহত না করে। ধীরে এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই বিস্তৃত করতে চাই নীরবে বই পড়ার অভ্যাস। তবে ২০২৪ সালের জন্য মেলা, প্রচার ও বই নিয়ে নতুন নতুন ইভেন্ট করার পরিকল্পনা আছে। তখন নিশ্চয়ই অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করব। অনেক মানুষ আমাদের তাঁদের নিজেদের সংগ্রহের বই দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।’

প্রযুক্তিতে মানুষের অভ্যস্ততা নিয়ে বলতে গিয়ে মিথুন দাস বলছিলেন, এখন অনলাইন কনটেন্ট দেখতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছেন পাঠক। প্রযুক্তি মানুষকে এতটাই অভ্যস্ত করে তুলছে যে মুঠোফোনে রিং না বাজলেও মনে হয়, ফোনটা বাজছে, কেউ কল করেছে। মানুষ নিজের ফোনের স্ক্রিন বারবার চেক করে দেখে। কিন্তু অনলাইনের কনটেন্ট থেকে মানুষ তথ্য খুব মনে রাখতে পারে না। নিজের কল্পনাশক্তি বাড়াতে পারে না। যেটা বই পড়া থেকে হয়। তাই সচেতনতা তৈরি করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।

উদ্যোক্তরা জানান, প্রথম দিকে ঢাকায় ৩০ থেকে ৪০ জন করে পাঠক হতো। এখনো রাজধানীতে সদস্য কমবেশি এমনই। মাঝেমধ্যে আরও বেশি হয়। আবার বৃষ্টি, তীব্র ঠান্ডা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে পাঠকের ভাটা পড়ে।

এ কার্যক্রমের আরেকজন উদ্যোক্তা রাইয়ান জহির বললেন, ভারতের কাবন পার্কে নীরবে বই পড়ার উদ্যোগ দেখে বাংলাদেশে এ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় স্বেচ্ছাসেবক আছেন। স্থানীয়ভাবে তাঁরা এ পাঠের তদারক করেন। জেলার কোনো খোলামেলা জায়গায় আয়োজন করা হয় পাঠের। স্থানীয় বাসিন্দারা আসেন নিজেদের পছন্দমতো বই নিয়ে। যাঁরা বই পড়তে আসেন, তাঁদের চা খাওয়ানোর একটা খরচ আছে। সেই খরচ আয়োজকেরা নিজেদের পকেট থেকে দিয়ে থাকেন।

গত ২৯ ডিসেম্বর পাবনার ঐতিহাসিক তাড়াশ ভবনের চত্বরে বসেছিল নীরবে বই পড়ার আয়োজন। সেখানে বই নিয়ে এসেছিলেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। সেখানকার আয়োজকদের একজন রবিউল রনি জানালেন, আসরে বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের মিলন ঘটে। প্রবীণ কয়েকজন এসেছিলেন নিজেদের বই নিয়ে। শিশুও উপস্থিত হয় অভিভাবকের সঙ্গে।
রাজধানীর রমনা পার্কে প্রতি শুক্রবার বিকেলে বসা এই আসরে দেখা যায় নানা রকম দৃশ্য। এখানে পড়তে আসা পাঠকেরা নিজেদের বইপত্রের সঙ্গে নিয়ে আসেন চাদর, টুকিটাকি শুকনা খাবার। যে কেউ বই পড়তে চাইলে নির্দ্বিধায় সেই চাদরের প্রান্তে জায়গা করে নিতে পারেন। বই না এনেও এখানে পাঠক হতে পারবেন আপনি। কেউ না কেউ কয়েকটি বই আনেন। সেখান থেকে যেকোনোটি বেছে নিয়ে পড়তে পারবেন।

অলাভজনক এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনা। আয়োজকেরা বলছিলেন, বই মানুষের কল্পনাশক্তি বাড়ায়। আর প্রযুক্তির অনেক কিছুই মানুষের স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে। বই পড়তে এসে অনেক সমমনা মানুষের পরিচয় হয়। তাঁরা নিজেদের মধ্যে বই নিয়ে কথা বলেন। সেখান থেকে পাঠের আরও বিষয় বাড়তে থাকে। এতে একট সামাজিক সম্পর্কের চর্চা হয়, যার পুরোটা ঘটে বই কেন্দ্র করে। খোলা জায়গা বেছে নেওয়া হয় মনের বিস্তৃতির জন্য।

নীরবে বই পড়ার দলের একজন হচ্ছেন জুবায়ের প্রতিম। তিনি ভারতের আসাম রাজ্যের এনআইটি শিলচরে আইসিসিআর স্কলার হিসেবে প্রকৌশলবিদ্যায় পড়ছেন। শীতের ছুটিতে গত ডিসেম্বরে তিনি কুষ্টিয়া ও রাজধানীর রমনার দুটি কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন। বললেন, ‘মানুষ যখন নিজের পছন্দের একটি বইয়ে ডুবে থাকে তখন সে আপন মনের রাজা। আমরা সবাইকে বই পড়ার আমন্ত্রণ জানাই। সেদিন কুষ্টিয়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়িতে বই পড়ার আসরে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র পরিষদের একজন সদস্য। কেউ কেউ সেদিন স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেছেন। মনে হচ্ছিল প্রত্যেক মানুষ নিজের সত্তার মুখোমুখি হয়েছে। এই দৃশ্য কতখানি নির্মল, নিজে উপস্থিত না হলে অনুভব করতে পারবেন না।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রযুক্তির আসক্তি এড়াতে দেশজুড়ে নীরবে বই পড়ছেন সরব পাঠক

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৪

ফুলের বাগান, পুকুরপাড় অথবা কোনো পুরোনো ঐতিহাসিক বাড়ির সামনের খোলা চত্বরে জড়ো হচ্ছেন কিছু মানুষ। সপ্তাহে এক দিন বিকেলে তাঁরা আসছেন। শর্ত একটাই, শব্দ না করে কিছুক্ষণ বই পড়তে হবে। এখানে বই পড়ার জন্য নির্ধারিত কোনো বিষয়বস্তু নেই। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, গবেষণাপত্র; যাঁর যা ইচ্ছা তা–ই পড়তে পারবেন। তবে ওই সময় মুঠোফোন খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এটা নিজের জন্য এবং পাশের অন্য পাঠকের জন্যও।

সাত মাস ধরে বাংলাদেশে চলছে এই নীরবে বই পড়া কার্যক্রম। ডিজিটাল বিপণন প্রতিষ্ঠান ট্র্যাশ বক্স লিমিটেডের ‘ভলান্টিয়ার অপরচুনিটিজ’ কার্যক্রমের একটি উদ্যোগ ‘বাংলাদেশ রিডস’, যেটাকে সহজে বলা হচ্ছে নীরবে বই পড়া কর্মসূচি। ২০২৩ সালে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে এই আয়োজন। ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী। রাজধানীর পাশাপাশি এখন দেশের আরও ৩২ জেলায় চলছে নীরব বই পড়ার অভিযান।

ব্যাপারটা অভিযানই বটে। প্রযুক্তির ক্ষতিকর দিকের বিরুদ্ধে মননশীলতা চর্চার অভিযান এই নীরবে বই পড়া কর্মসূচি। ছুটির দিন বিকেলে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় চলছে এ বই পড়া। আয়োজকেরা জানালেন, ২০২৪ সালের লক্ষ্য হচ্ছে, দেশের ৬৪ জেলায় বই পড়ার কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া। মূলত প্রযুক্তির খারাপ দিকগুলোর ক্ষতি এড়িয়ে মানসিক বিকাশে গুরুত্ব দেওয়াই মূল লক্ষ্য। নীরবে বই পড়া কার্যক্রমের অন্যতম দুজন উদ্যোক্তা মিথুন দাস আর রাইয়ান জহির।
মিথুন দাস ট্র্যাশ বক্স লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর রাইয়ান বেসরকারি চাকরিজীবী। দুজনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব।
মিথুন দাস প্রথম আলোকে বললেন, ‘এখনো কোনো ফান্ড বা সহযোগী সংগঠনকে যুক্ত করা হয়নি কার্যক্রমের সঙ্গে। অন্যতম কারণ, কোনো সংস্থা, প্রতিষ্ঠান যেন নিজেদের পণ্যের প্রচার করে আমাদের এ উদ্যোগ ব্যাহত না করে। ধীরে এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই বিস্তৃত করতে চাই নীরবে বই পড়ার অভ্যাস। তবে ২০২৪ সালের জন্য মেলা, প্রচার ও বই নিয়ে নতুন নতুন ইভেন্ট করার পরিকল্পনা আছে। তখন নিশ্চয়ই অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করব। অনেক মানুষ আমাদের তাঁদের নিজেদের সংগ্রহের বই দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।’

প্রযুক্তিতে মানুষের অভ্যস্ততা নিয়ে বলতে গিয়ে মিথুন দাস বলছিলেন, এখন অনলাইন কনটেন্ট দেখতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছেন পাঠক। প্রযুক্তি মানুষকে এতটাই অভ্যস্ত করে তুলছে যে মুঠোফোনে রিং না বাজলেও মনে হয়, ফোনটা বাজছে, কেউ কল করেছে। মানুষ নিজের ফোনের স্ক্রিন বারবার চেক করে দেখে। কিন্তু অনলাইনের কনটেন্ট থেকে মানুষ তথ্য খুব মনে রাখতে পারে না। নিজের কল্পনাশক্তি বাড়াতে পারে না। যেটা বই পড়া থেকে হয়। তাই সচেতনতা তৈরি করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।

উদ্যোক্তরা জানান, প্রথম দিকে ঢাকায় ৩০ থেকে ৪০ জন করে পাঠক হতো। এখনো রাজধানীতে সদস্য কমবেশি এমনই। মাঝেমধ্যে আরও বেশি হয়। আবার বৃষ্টি, তীব্র ঠান্ডা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে পাঠকের ভাটা পড়ে।

এ কার্যক্রমের আরেকজন উদ্যোক্তা রাইয়ান জহির বললেন, ভারতের কাবন পার্কে নীরবে বই পড়ার উদ্যোগ দেখে বাংলাদেশে এ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় স্বেচ্ছাসেবক আছেন। স্থানীয়ভাবে তাঁরা এ পাঠের তদারক করেন। জেলার কোনো খোলামেলা জায়গায় আয়োজন করা হয় পাঠের। স্থানীয় বাসিন্দারা আসেন নিজেদের পছন্দমতো বই নিয়ে। যাঁরা বই পড়তে আসেন, তাঁদের চা খাওয়ানোর একটা খরচ আছে। সেই খরচ আয়োজকেরা নিজেদের পকেট থেকে দিয়ে থাকেন।

গত ২৯ ডিসেম্বর পাবনার ঐতিহাসিক তাড়াশ ভবনের চত্বরে বসেছিল নীরবে বই পড়ার আয়োজন। সেখানে বই নিয়ে এসেছিলেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। সেখানকার আয়োজকদের একজন রবিউল রনি জানালেন, আসরে বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের মিলন ঘটে। প্রবীণ কয়েকজন এসেছিলেন নিজেদের বই নিয়ে। শিশুও উপস্থিত হয় অভিভাবকের সঙ্গে।
রাজধানীর রমনা পার্কে প্রতি শুক্রবার বিকেলে বসা এই আসরে দেখা যায় নানা রকম দৃশ্য। এখানে পড়তে আসা পাঠকেরা নিজেদের বইপত্রের সঙ্গে নিয়ে আসেন চাদর, টুকিটাকি শুকনা খাবার। যে কেউ বই পড়তে চাইলে নির্দ্বিধায় সেই চাদরের প্রান্তে জায়গা করে নিতে পারেন। বই না এনেও এখানে পাঠক হতে পারবেন আপনি। কেউ না কেউ কয়েকটি বই আনেন। সেখান থেকে যেকোনোটি বেছে নিয়ে পড়তে পারবেন।

অলাভজনক এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনা। আয়োজকেরা বলছিলেন, বই মানুষের কল্পনাশক্তি বাড়ায়। আর প্রযুক্তির অনেক কিছুই মানুষের স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে। বই পড়তে এসে অনেক সমমনা মানুষের পরিচয় হয়। তাঁরা নিজেদের মধ্যে বই নিয়ে কথা বলেন। সেখান থেকে পাঠের আরও বিষয় বাড়তে থাকে। এতে একট সামাজিক সম্পর্কের চর্চা হয়, যার পুরোটা ঘটে বই কেন্দ্র করে। খোলা জায়গা বেছে নেওয়া হয় মনের বিস্তৃতির জন্য।

নীরবে বই পড়ার দলের একজন হচ্ছেন জুবায়ের প্রতিম। তিনি ভারতের আসাম রাজ্যের এনআইটি শিলচরে আইসিসিআর স্কলার হিসেবে প্রকৌশলবিদ্যায় পড়ছেন। শীতের ছুটিতে গত ডিসেম্বরে তিনি কুষ্টিয়া ও রাজধানীর রমনার দুটি কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন। বললেন, ‘মানুষ যখন নিজের পছন্দের একটি বইয়ে ডুবে থাকে তখন সে আপন মনের রাজা। আমরা সবাইকে বই পড়ার আমন্ত্রণ জানাই। সেদিন কুষ্টিয়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়িতে বই পড়ার আসরে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র পরিষদের একজন সদস্য। কেউ কেউ সেদিন স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেছেন। মনে হচ্ছিল প্রত্যেক মানুষ নিজের সত্তার মুখোমুখি হয়েছে। এই দৃশ্য কতখানি নির্মল, নিজে উপস্থিত না হলে অনুভব করতে পারবেন না।’