ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৯১ বার পড়া হয়েছে

সারা দেশে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু আছে। এর মধ্য দিয়ে কেউ পান নগদ অর্থসহায়তা, কেউ পান খাদ্যসহায়তা।

এর মধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর ২৫ বছর আগে একটি সরকারি ভাতা চালু করে। তবে সব সুবিধাভোগী কি এসব সহায়তা পান? সব সুবিধাবঞ্চিত মানুষ হয়তো এসব সুবিধার আওতায় আসেন না, আবার যঁারা আওতায় আসেন না, তাঁদেরও অনেককে বঞ্চিত হতে হয়। যেমনটি আমরা দেখতে পাচ্ছি বগুড়ার ধুনট উপজেলায়। সেখানে সুবিধাভোগী সরকারি ভাতার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র।

সমাজসেবা অধিদপ্তর সারা দেশে দুস্থ, বিধবা, অসহায় বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের এ ভাতা দিয়ে থাকে। ধুনট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১৬ হাজার ৪৮৬ জন বয়স্ক, ১৮ হাজার ২৫০ জন বিধবা এবং ৬ হাজার ৪৭ জনের নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড রয়েছে। কার্ডধারী প্রত্যেক বিধবা পান প্রতি মাসে ৫০০ টাকা, বয়স্করা ৬০০ টাকা ও প্রতিবন্ধীরা ৮৫০ টাকা। এক বছরে চার কিস্তিতে তাঁদের এ টাকা দেওয়া হয়। এত দিন এ অর্থ পাওয়াটা অনেকটা ভোগান্তির ছিল।

সুবিধাভোগীদের হাতে হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে গত বছর থেকে এসব কার্ডধারীর মুঠোফোনে নগদ হিসাব নম্বর খুলতে বলা হয়। সেই হিসাব নম্বরে ভাতার টাকা পাঠানো হচ্ছে।
কিন্তু ভাতাভোগী অনেকের কাছে সরকারি ভাতা যাচ্ছে না। এ নিয়ে গত এক মাসে ধুনট থানায় অন্তত ১৫টি জিডি হয়েছে। এর বাইরে অনেকে সমাজসেবা কার্যালয়ে মৌখিক অভিযোগ করেছেন।

ভাতাভোগীরা বলছেন, অধিকাংশ কার্ডধারী টাকা তোলার সময় তাঁদের মুঠোফোন হিসাব নম্বরের গোপন পিনকোড এজেন্টদের কাছে বলে দেন। এজেন্টরা গোপন পিনকোড প্রতারক চক্রকে জানিয়ে দেয়। এভাবে প্রতারক চক্র টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ সম্পর্কে ধুনট থানা-পুলিশের বক্তব্য, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কৌশলে কয়েকজনের কিছু টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাও বলছেন, তথ্যপ্রমাণের অভাবে প্রতারক চক্রকে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না। সারা দেশে একই অবস্থা হয়েছে।
বেশ কিছুদিন ধরে সরকারি ভাতা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আসছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর সামান্য টাকাও হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি, এখানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের করণীয় আছে। সরকারি সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এ প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

আপডেট সময় : ১১:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৩

সারা দেশে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু আছে। এর মধ্য দিয়ে কেউ পান নগদ অর্থসহায়তা, কেউ পান খাদ্যসহায়তা।

এর মধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর ২৫ বছর আগে একটি সরকারি ভাতা চালু করে। তবে সব সুবিধাভোগী কি এসব সহায়তা পান? সব সুবিধাবঞ্চিত মানুষ হয়তো এসব সুবিধার আওতায় আসেন না, আবার যঁারা আওতায় আসেন না, তাঁদেরও অনেককে বঞ্চিত হতে হয়। যেমনটি আমরা দেখতে পাচ্ছি বগুড়ার ধুনট উপজেলায়। সেখানে সুবিধাভোগী সরকারি ভাতার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র।

সমাজসেবা অধিদপ্তর সারা দেশে দুস্থ, বিধবা, অসহায় বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের এ ভাতা দিয়ে থাকে। ধুনট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১৬ হাজার ৪৮৬ জন বয়স্ক, ১৮ হাজার ২৫০ জন বিধবা এবং ৬ হাজার ৪৭ জনের নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড রয়েছে। কার্ডধারী প্রত্যেক বিধবা পান প্রতি মাসে ৫০০ টাকা, বয়স্করা ৬০০ টাকা ও প্রতিবন্ধীরা ৮৫০ টাকা। এক বছরে চার কিস্তিতে তাঁদের এ টাকা দেওয়া হয়। এত দিন এ অর্থ পাওয়াটা অনেকটা ভোগান্তির ছিল।

সুবিধাভোগীদের হাতে হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে গত বছর থেকে এসব কার্ডধারীর মুঠোফোনে নগদ হিসাব নম্বর খুলতে বলা হয়। সেই হিসাব নম্বরে ভাতার টাকা পাঠানো হচ্ছে।
কিন্তু ভাতাভোগী অনেকের কাছে সরকারি ভাতা যাচ্ছে না। এ নিয়ে গত এক মাসে ধুনট থানায় অন্তত ১৫টি জিডি হয়েছে। এর বাইরে অনেকে সমাজসেবা কার্যালয়ে মৌখিক অভিযোগ করেছেন।

ভাতাভোগীরা বলছেন, অধিকাংশ কার্ডধারী টাকা তোলার সময় তাঁদের মুঠোফোন হিসাব নম্বরের গোপন পিনকোড এজেন্টদের কাছে বলে দেন। এজেন্টরা গোপন পিনকোড প্রতারক চক্রকে জানিয়ে দেয়। এভাবে প্রতারক চক্র টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ সম্পর্কে ধুনট থানা-পুলিশের বক্তব্য, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কৌশলে কয়েকজনের কিছু টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাও বলছেন, তথ্যপ্রমাণের অভাবে প্রতারক চক্রকে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না। সারা দেশে একই অবস্থা হয়েছে।
বেশ কিছুদিন ধরে সরকারি ভাতা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আসছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর সামান্য টাকাও হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি, এখানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের করণীয় আছে। সরকারি সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এ প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।