ঢাকা ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

পাকিস্তানে পেঁয়াজের আকাশছোঁয়া দামের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কী?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৪ ৮৯ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানে গত কয়েক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর ফলে, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির যুগে সাধারণ পাকিস্তানিদের পক্ষে পেঁয়াজ কেনা প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজ সরবরাহে কোনো ব্যাঘাত ঘটায় কিন্তু এই এই দাম বাড়েনি। পেঁয়াজ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মতে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ রপ্তানিতে প্রতিবেশী দেশ ভারতের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা।

যদিও ভারত থেকে পাকিস্তানে পেঁয়াজ আমদানি করা হয় না। কিন্তু ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের বাজারে।

গত এক মাসে কয়েকটি শহরে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১৫০ রুপি (প্রায় ৪৫ ভারতীয় রুপি) থেকে বেড়ে কেজি প্রতি ২৭০ রুপি (প্রায় ৮০ ভারতীয় রুপি) হয়ে গিয়েছে।

ভারত কবে এবং কেন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে?

ভারত গত বছরের আটই ডিসেম্বর থেকে পেঁয়াজ রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেডের পক্ষ থেকে সাতই ডিসেম্বর একটি নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, পরদিন অর্থাৎ আটই ডিসেম্বর থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ থাকবে।

একই সঙ্গে এও জানানো হয়েছে নির্দেশিকা জারি করার আগ পর্যন্ত যে কয়টি রপ্তানির অর্ডার রয়েছে, তা সরবারহ করা যাবে।

এর পাশাপাশি রপ্তানির জন্য যে পরিমাণ পেঁয়াজ ইতিমধ্যে জাহাজে তুলে দেওয়া হয়েছে তা সরবরাহ করা যাবে। তবে তা করতে হবে পাঁচই জানুয়ারির আগে।

গত বছর ২৮শে অক্টোবর পেঁয়াজ রপ্তানিতে টন প্রতি ন্যূনতম ৮০০ ডলার রপ্তানি মূল্য চালু করে ভারত। প্রাথমিকভাবে এর জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়, ৩১ শে ডিসেম্বর। তবে তার আগেই, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে কেন্দ্র সরকার।

তার কারণ ভারতীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম লাগাম ছাড়িয়ে যেতে শুরু করে। বাজারে পেঁয়াজের জোগান বাড়িয়ে তার দামে লাগাম টানার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার।

স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম যেন না বাড়ে এবং অন্যান্য সব্জির পাশাপাশি পেঁয়াজের দামও যেন মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকে, সেই কারণে এই নিষেধাজ্ঞা।

ভারতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে বাজারে টমেটো, পেঁয়াজ এবং অন্যান্য আনাজপাতির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্র সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারতের শীর্ষ অংশীদার দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, কাতার, ভিয়েতনাম, ওমান এবং সিঙ্গাপুর।

ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) কর্তৃক ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কাসহ ভারতের একাধিক প্রতিবেশী দেশে পেঁয়াজের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে না পাকিস্তান। যদিও ভারতের এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে দেশটিতে। কিন্তু কেন?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পাকিস্তানে পেঁয়াজের আকাশছোঁয়া দামের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কী?

আপডেট সময় : ০৫:২৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৪

পাকিস্তানে গত কয়েক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর ফলে, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির যুগে সাধারণ পাকিস্তানিদের পক্ষে পেঁয়াজ কেনা প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজ সরবরাহে কোনো ব্যাঘাত ঘটায় কিন্তু এই এই দাম বাড়েনি। পেঁয়াজ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মতে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ রপ্তানিতে প্রতিবেশী দেশ ভারতের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা।

যদিও ভারত থেকে পাকিস্তানে পেঁয়াজ আমদানি করা হয় না। কিন্তু ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের বাজারে।

গত এক মাসে কয়েকটি শহরে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১৫০ রুপি (প্রায় ৪৫ ভারতীয় রুপি) থেকে বেড়ে কেজি প্রতি ২৭০ রুপি (প্রায় ৮০ ভারতীয় রুপি) হয়ে গিয়েছে।

ভারত কবে এবং কেন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে?

ভারত গত বছরের আটই ডিসেম্বর থেকে পেঁয়াজ রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেডের পক্ষ থেকে সাতই ডিসেম্বর একটি নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, পরদিন অর্থাৎ আটই ডিসেম্বর থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ থাকবে।

একই সঙ্গে এও জানানো হয়েছে নির্দেশিকা জারি করার আগ পর্যন্ত যে কয়টি রপ্তানির অর্ডার রয়েছে, তা সরবারহ করা যাবে।

এর পাশাপাশি রপ্তানির জন্য যে পরিমাণ পেঁয়াজ ইতিমধ্যে জাহাজে তুলে দেওয়া হয়েছে তা সরবরাহ করা যাবে। তবে তা করতে হবে পাঁচই জানুয়ারির আগে।

গত বছর ২৮শে অক্টোবর পেঁয়াজ রপ্তানিতে টন প্রতি ন্যূনতম ৮০০ ডলার রপ্তানি মূল্য চালু করে ভারত। প্রাথমিকভাবে এর জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়, ৩১ শে ডিসেম্বর। তবে তার আগেই, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে কেন্দ্র সরকার।

তার কারণ ভারতীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম লাগাম ছাড়িয়ে যেতে শুরু করে। বাজারে পেঁয়াজের জোগান বাড়িয়ে তার দামে লাগাম টানার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার।

স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম যেন না বাড়ে এবং অন্যান্য সব্জির পাশাপাশি পেঁয়াজের দামও যেন মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকে, সেই কারণে এই নিষেধাজ্ঞা।

ভারতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে বাজারে টমেটো, পেঁয়াজ এবং অন্যান্য আনাজপাতির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্র সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারতের শীর্ষ অংশীদার দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, কাতার, ভিয়েতনাম, ওমান এবং সিঙ্গাপুর।

ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) কর্তৃক ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কাসহ ভারতের একাধিক প্রতিবেশী দেশে পেঁয়াজের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে না পাকিস্তান। যদিও ভারতের এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে দেশটিতে। কিন্তু কেন?