ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

নাটোরে চায়ের দোকানে রগ কেটে ও কুপিয়ে যুবলীগ নেতাকে হত্যা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ৭৯ বার পড়া হয়েছে

নাটোরের লালপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে চায়ের দোকানে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আজ রোববার সকাল পৌনে আটটার দিকে উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া চিলান মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম ওসমান গণি (৪২)। তিনি উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাঙ্গাপাড়া চিলান গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, নিহত ওসমান গণি এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলামের অনুসারী ছিলেন। একই এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক হত্যা মামলার আসামি ওসমান। এটা পাল্টা খুনের ঘটনা বলে মনে করছে পুলিশ। অভিযুক্ত হামলাকারীরা একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালামের অনুসারী বলে জানা গেছে।
লালপুর থানার পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকাল পৌনে আটটার দিকে গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন ওসমান গণি। এ সময় একই গ্রামের রেজাউল, আবদুল লতিফসহ পাঁচ থেকে ছয়জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা করেন। হামলাকারীরা তাঁর হাত-পায়ের রগ কেটে দেন এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। ঘটনার আকস্মিকতায় চায়ের দোকানদারসহ আশপাশের লোকজন সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। ওসমান গণির মৃত্যু নিশ্চিত হলে হামলাকারীরা চলে যান। লাশ ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল।

ওসমান গণির মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পাল্টা হামলার আশঙ্কা করছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘উভয় পক্ষ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। তাঁদের পাল্টাপাল্টি হত্যার ঘটনায় আমরা আতঙ্কে আছি।
নিহত ব্যক্তির ভাই আফছার আলী বলেন, এ বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় কদিমচিলান ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক খুন হন। ওই খুনের মামলায় ওসমান গণিকে আসামি করা হয়। মামলাটি এখন চলমান। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ করি। আমরা বর্তমান সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলামের অনুসারী। অন্যদিকে, হামলাকারীরা সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালামের অনুসারী। সাবেক চেয়ারম্যান খুনের পর থেকেই তাঁর অনুসারীরা আমাদের খুন–জখমের হুমকি দিয়ে আসছিল। আজ সকালে আচমকা হামলা চালিয়ে রেজাউল, লতিফসহ কয়েকজন আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আমরা এর বিচার চাই।’

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রেজাউল ও আবদুল লতিফ পলাতক। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজ্জ্বল হোসেন বলেন, গ্রামে এর আগে একজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খুন হয়েছিলেন। ওই ঘটনার জের ধরে আজ একটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নাটোরে চায়ের দোকানে রগ কেটে ও কুপিয়ে যুবলীগ নেতাকে হত্যা

আপডেট সময় : ০৬:১৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

নাটোরের লালপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে চায়ের দোকানে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আজ রোববার সকাল পৌনে আটটার দিকে উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া চিলান মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম ওসমান গণি (৪২)। তিনি উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাঙ্গাপাড়া চিলান গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, নিহত ওসমান গণি এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলামের অনুসারী ছিলেন। একই এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক হত্যা মামলার আসামি ওসমান। এটা পাল্টা খুনের ঘটনা বলে মনে করছে পুলিশ। অভিযুক্ত হামলাকারীরা একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালামের অনুসারী বলে জানা গেছে।
লালপুর থানার পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকাল পৌনে আটটার দিকে গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন ওসমান গণি। এ সময় একই গ্রামের রেজাউল, আবদুল লতিফসহ পাঁচ থেকে ছয়জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা করেন। হামলাকারীরা তাঁর হাত-পায়ের রগ কেটে দেন এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। ঘটনার আকস্মিকতায় চায়ের দোকানদারসহ আশপাশের লোকজন সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। ওসমান গণির মৃত্যু নিশ্চিত হলে হামলাকারীরা চলে যান। লাশ ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল।

ওসমান গণির মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পাল্টা হামলার আশঙ্কা করছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘উভয় পক্ষ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। তাঁদের পাল্টাপাল্টি হত্যার ঘটনায় আমরা আতঙ্কে আছি।
নিহত ব্যক্তির ভাই আফছার আলী বলেন, এ বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় কদিমচিলান ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক খুন হন। ওই খুনের মামলায় ওসমান গণিকে আসামি করা হয়। মামলাটি এখন চলমান। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ করি। আমরা বর্তমান সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলামের অনুসারী। অন্যদিকে, হামলাকারীরা সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালামের অনুসারী। সাবেক চেয়ারম্যান খুনের পর থেকেই তাঁর অনুসারীরা আমাদের খুন–জখমের হুমকি দিয়ে আসছিল। আজ সকালে আচমকা হামলা চালিয়ে রেজাউল, লতিফসহ কয়েকজন আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আমরা এর বিচার চাই।’

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রেজাউল ও আবদুল লতিফ পলাতক। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজ্জ্বল হোসেন বলেন, গ্রামে এর আগে একজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খুন হয়েছিলেন। ওই ঘটনার জের ধরে আজ একটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।