ঢাকা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

দেশের বড় জামাতের জন্য প্রস্তুত গোর-এ-শহীদ, থাকছে বিশেষ ট্রেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪ ২৫ বার পড়া হয়েছে

ঈদুল আজহায় দেশের সবচেয়ে বড় জামাতের আয়োজন করতে প্রস্তুত হয়েছে দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ মাঠ। এ মাঠে লাখো মুসল্লি পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করবেন। এ লক্ষ্যেই প্রস্তুত করছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন।

সবুজ ঘাসে মোড়ানো দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ মাঠের আয়তন ২২ একর। মাঠের পশ্চিমে লাল খয়েরি আর সাদা রংয়ের মিশ্রণে ৫১৬ ফুট দৈর্ঘ্যের সুউচ্চ ঈদগাহ মিনারটি যে কারো নজর কাড়ে। বাংলাদেশ তথা এশিয়া মহাদেশের বৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে এই মাঠে। আসন্ন ঈদুল অজাহার লাখো মুসল্লির নামাজ আদায়ের জন্য গোর-এ-শহীদ মাঠ প্রস্তুত করছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। এই ময়দানে নামাজ আদায় করতে আসা দূরের মুসল্লিদের জন্য থাকছে বিশেষ দুটি ট্রেন।

আয়োজকরা জানান, গোর-এ-শহীদ ময়দানে মিনারটি তৈরি হবার পরে ২০১৭ সালে প্রথম বৃহৎ পরিসরে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিবারের ন্যায় এবারও যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। সোমবার (১৭ জুন) গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। জামাতে মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সমগ্র ঈদগাহ মাঠ সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশ আনসারের পাশাপাশি র‍্যাব মোতায়েন এবং গোয়েন্দা নজরদারিও থাকছে। এছাড়া পুলিশ ও র‍্যাবের কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে।

ঈদগাহ মাঠে নামাজের কাতারের জন্য মাঠে লাইন টানা, মাঠের তিন দিকে তোরণ নির্মাণ, নামাজিদের জন্য ওজুর পানি ও ভ্রাম্যমাণ টয়লেট ব্যবস্থাসহ মাঠ সজ্জার কাজ শেষ হয়েছে। কোনো মুসল্লি জামাতে এসে অসুস্থ হলে তাদের জন্য অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। মাঠের আরেকটি অংশে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন যানবাহনের গ্যারেজ। বিদ্যুতের পাশাপাশি রয়েছে জেনারেটের ব্যবস্থা। লাগানো হয়েছে শতাধিক মাইক।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ বলেন, এটি দেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। এই মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। ইতিমধ্যেই ঈদের জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। মাঠে ওয়াচ টাওয়ার ও সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সারা শহরে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এখানে শুধু দিনাজপুর কিংবা এর আশপাশেই নয়, সারাদেশ থেকেই দলে দলে লোকজন অংশগ্রহণ করবেন। যাতে করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করতে পারে সেই প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন শেষে দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, মাঠে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রী দুইটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছেন। পঞ্চগড় থেকে দিনাজপুর এবং পার্বতীপুর থেকে দিনাজপুর। মুসল্লিদের আনা নেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে এই ট্রেন। মুসল্লিদের নামাজে যেন কষ্ট না হয় এ কারণে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। গেল ঈদুল ফিতরে এক সঙ্গে ৫ লাখ মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেছিল এ ঈদগাহ মাঠে। এবার পশু কোরবানির কারণে কিছুটা কম হলেও বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নামাজে অংশগ্রহণ করবেন বলে আমরা আশা করছি।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে ময়দানে বড় কোনো মিম্বর ছিল না। ২০১৫ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা ও অর্থায়ন করেন। মিনারটি তৈরি হয়েছে মোগল স্থাপত্য রীতিতে। এর মেহরাবের উচ্চতা ৫৫ ফুট। ৫২ গম্বুজ বিশিষ্ট ঈদগাহ মিনার রয়েছে। দুই প্রান্তে দুটি মিনারের উচ্চতা ৬০ ফুট। মাঝখানের দুটির উচ্চতা ৫০ ফুট। আর টাইলস করা মেহরাবের উচ্চতা ৪৭ ফুট। এতে খিলান রয়েছে ৩২টি। প্রতিটি গম্বুজে আছে বৈদ্যুতিক বাতি। মসজিদে নববি, কুয়েত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের স্থাপনার আদলে তৈরি মিনারটির নির্মাণকাজে ব্যয় হয়েছিল প্রায় চার কোটি টাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দেশের বড় জামাতের জন্য প্রস্তুত গোর-এ-শহীদ, থাকছে বিশেষ ট্রেন

আপডেট সময় : ০৩:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪

ঈদুল আজহায় দেশের সবচেয়ে বড় জামাতের আয়োজন করতে প্রস্তুত হয়েছে দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ মাঠ। এ মাঠে লাখো মুসল্লি পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করবেন। এ লক্ষ্যেই প্রস্তুত করছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন।

সবুজ ঘাসে মোড়ানো দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ মাঠের আয়তন ২২ একর। মাঠের পশ্চিমে লাল খয়েরি আর সাদা রংয়ের মিশ্রণে ৫১৬ ফুট দৈর্ঘ্যের সুউচ্চ ঈদগাহ মিনারটি যে কারো নজর কাড়ে। বাংলাদেশ তথা এশিয়া মহাদেশের বৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে এই মাঠে। আসন্ন ঈদুল অজাহার লাখো মুসল্লির নামাজ আদায়ের জন্য গোর-এ-শহীদ মাঠ প্রস্তুত করছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। এই ময়দানে নামাজ আদায় করতে আসা দূরের মুসল্লিদের জন্য থাকছে বিশেষ দুটি ট্রেন।

আয়োজকরা জানান, গোর-এ-শহীদ ময়দানে মিনারটি তৈরি হবার পরে ২০১৭ সালে প্রথম বৃহৎ পরিসরে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিবারের ন্যায় এবারও যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। সোমবার (১৭ জুন) গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। জামাতে মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সমগ্র ঈদগাহ মাঠ সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশ আনসারের পাশাপাশি র‍্যাব মোতায়েন এবং গোয়েন্দা নজরদারিও থাকছে। এছাড়া পুলিশ ও র‍্যাবের কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে।

ঈদগাহ মাঠে নামাজের কাতারের জন্য মাঠে লাইন টানা, মাঠের তিন দিকে তোরণ নির্মাণ, নামাজিদের জন্য ওজুর পানি ও ভ্রাম্যমাণ টয়লেট ব্যবস্থাসহ মাঠ সজ্জার কাজ শেষ হয়েছে। কোনো মুসল্লি জামাতে এসে অসুস্থ হলে তাদের জন্য অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। মাঠের আরেকটি অংশে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন যানবাহনের গ্যারেজ। বিদ্যুতের পাশাপাশি রয়েছে জেনারেটের ব্যবস্থা। লাগানো হয়েছে শতাধিক মাইক।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ বলেন, এটি দেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত। এই মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। ইতিমধ্যেই ঈদের জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। মাঠে ওয়াচ টাওয়ার ও সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সারা শহরে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এখানে শুধু দিনাজপুর কিংবা এর আশপাশেই নয়, সারাদেশ থেকেই দলে দলে লোকজন অংশগ্রহণ করবেন। যাতে করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করতে পারে সেই প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন শেষে দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, মাঠে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রী দুইটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছেন। পঞ্চগড় থেকে দিনাজপুর এবং পার্বতীপুর থেকে দিনাজপুর। মুসল্লিদের আনা নেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে এই ট্রেন। মুসল্লিদের নামাজে যেন কষ্ট না হয় এ কারণে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। গেল ঈদুল ফিতরে এক সঙ্গে ৫ লাখ মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেছিল এ ঈদগাহ মাঠে। এবার পশু কোরবানির কারণে কিছুটা কম হলেও বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নামাজে অংশগ্রহণ করবেন বলে আমরা আশা করছি।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে ময়দানে বড় কোনো মিম্বর ছিল না। ২০১৫ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা ও অর্থায়ন করেন। মিনারটি তৈরি হয়েছে মোগল স্থাপত্য রীতিতে। এর মেহরাবের উচ্চতা ৫৫ ফুট। ৫২ গম্বুজ বিশিষ্ট ঈদগাহ মিনার রয়েছে। দুই প্রান্তে দুটি মিনারের উচ্চতা ৬০ ফুট। মাঝখানের দুটির উচ্চতা ৫০ ফুট। আর টাইলস করা মেহরাবের উচ্চতা ৪৭ ফুট। এতে খিলান রয়েছে ৩২টি। প্রতিটি গম্বুজে আছে বৈদ্যুতিক বাতি। মসজিদে নববি, কুয়েত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের স্থাপনার আদলে তৈরি মিনারটির নির্মাণকাজে ব্যয় হয়েছিল প্রায় চার কোটি টাকা।