ঢাকা ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেম এক নয়: আলী রীয়াজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৩ ৮৭ বার পড়া হয়েছে

দেশপ্রেম একটা অস্ত্র। জাতীয়তাবাদ এবং দেশপ্রেম এক নয়। কিন্তু এ দুটো এক করে দেখলে সেখানে গণতন্ত্র রক্ষা হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন।

শনিবার ঢাকায় সোনারগাঁও হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’–এর প্রথম দিনের ‘সীমান্ত ছাড়িয়ে সংস্কৃতির লড়াই’ অধিবেশনে বক্তব্য দেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনের ওই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। আলী রীয়াজ বলেন, প্রতিটি সমাজে কিছু আলাদা আধিপত্যবাদী তত্ত্ব আছে। সেগুলো অনুসরণ না করলেই প্রশ্ন ওঠে ‘দেশপ্রেম’ নিয়ে।
‘কিন্তু আমাকে তাদের মতো করেই চিন্তা করতে হবে—এই আধিপত্যবাদী ভাবনাটাই একটা ফাঁদ। এটা শুধু আমেরিকা বা জার্মানি নয়, বাংলাদেশেও হতে পারে। সমাজে অনেক রকম ধারণা থাকে। মতের মিল না হলেই রাষ্ট্র যখন নিজের তত্ত্ব প্রয়োগ করতে চায়, সেটাই আধিপত্যবাদী আচরণ।’ বলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

সাংস্কৃতিক লড়াই প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, যুদ্ধ বিষয়টি একটি বড় সমস্যা। প্রথমে একটা গ্রুপকে টার্গেট করা হয়, তারপর তাদের ধ্বংস করতে চাওয়া হয়। দুই পক্ষই তখন একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশ করে। একটা গণতান্ত্রিক দেশে ধর্ম কখনো বড় ইস্যু হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের রক্ষা করাই গণতান্ত্রিক দেশের কাজ।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সি ক্রিশ্চিন ফেয়ারের কথায় উঠে আসে ‘সংস্কৃতির লড়াই’ প্রসঙ্গটি একটি কৃত্রিম ব্যাপার। মূলত এটি দেশের সংবিধান ও আইনের দুর্বলতা। মানুষের যখন ভোটের অধিকার থাকে না, তখন তারা সমগোত্রীয় হয়ে যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে সুইডেনের তুরিবা ইউনিভার্সিটির কমিউনিকেশন সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গ্রেগরি সিমনস সাংস্কৃতিক লড়াই নিয়ে ভিন্নমত জানান। তিনি বলেন, পুলিশ, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ছাড়াও যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের অধরা (ইনটেনজিবল) উপাদান থেকেই শুরু হতে পারে সাংস্কৃতিক সহিংসতা। এটা নির্ভর করে মানুষ বা একটি গোষ্ঠী তার ভাবাদর্শ কেমন করে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, এর ওপর।

‘সীমান্ত ছাড়িয়ে সংস্কৃতির লড়াই’ শীর্ষক অধিবেশন সঞ্চালনা করেন কানাডায় আফগানিস্তান সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ইরফান ইয়ার। সাংস্কৃতিক লড়াই কী, এর সংজ্ঞা এবং সাংস্কৃতিক লড়াই হ্রাসের উপায় নিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন প্যানেলিস্টদের। আলোচনা শেষে ছিল শ্রোতাদের প্রশ্নোত্তর পর্ব। তিনজন আলোচকই বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এটি সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) দ্বিতীয় সম্মেলন। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। বিশ্বের ৭৫টি দেশের গবেষক, শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিকসহ বিভিন্ন পেশার ২০০ জন গুরুত্বপূর্ণ বক্তা উপস্থিত থাকবেন। তিন দিনের সম্মেলনে ৫০টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের আলোচ্য বিষয় ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় ইস্যু ও ভূরাজনীতি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেম এক নয়: আলী রীয়াজ

আপডেট সময় : ০৭:৫১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৩

দেশপ্রেম একটা অস্ত্র। জাতীয়তাবাদ এবং দেশপ্রেম এক নয়। কিন্তু এ দুটো এক করে দেখলে সেখানে গণতন্ত্র রক্ষা হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন।

শনিবার ঢাকায় সোনারগাঁও হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’–এর প্রথম দিনের ‘সীমান্ত ছাড়িয়ে সংস্কৃতির লড়াই’ অধিবেশনে বক্তব্য দেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনের ওই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। আলী রীয়াজ বলেন, প্রতিটি সমাজে কিছু আলাদা আধিপত্যবাদী তত্ত্ব আছে। সেগুলো অনুসরণ না করলেই প্রশ্ন ওঠে ‘দেশপ্রেম’ নিয়ে।
‘কিন্তু আমাকে তাদের মতো করেই চিন্তা করতে হবে—এই আধিপত্যবাদী ভাবনাটাই একটা ফাঁদ। এটা শুধু আমেরিকা বা জার্মানি নয়, বাংলাদেশেও হতে পারে। সমাজে অনেক রকম ধারণা থাকে। মতের মিল না হলেই রাষ্ট্র যখন নিজের তত্ত্ব প্রয়োগ করতে চায়, সেটাই আধিপত্যবাদী আচরণ।’ বলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

সাংস্কৃতিক লড়াই প্রসঙ্গে আলী রীয়াজ বলেন, যুদ্ধ বিষয়টি একটি বড় সমস্যা। প্রথমে একটা গ্রুপকে টার্গেট করা হয়, তারপর তাদের ধ্বংস করতে চাওয়া হয়। দুই পক্ষই তখন একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশ করে। একটা গণতান্ত্রিক দেশে ধর্ম কখনো বড় ইস্যু হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের রক্ষা করাই গণতান্ত্রিক দেশের কাজ।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সি ক্রিশ্চিন ফেয়ারের কথায় উঠে আসে ‘সংস্কৃতির লড়াই’ প্রসঙ্গটি একটি কৃত্রিম ব্যাপার। মূলত এটি দেশের সংবিধান ও আইনের দুর্বলতা। মানুষের যখন ভোটের অধিকার থাকে না, তখন তারা সমগোত্রীয় হয়ে যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে সুইডেনের তুরিবা ইউনিভার্সিটির কমিউনিকেশন সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গ্রেগরি সিমনস সাংস্কৃতিক লড়াই নিয়ে ভিন্নমত জানান। তিনি বলেন, পুলিশ, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ছাড়াও যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের অধরা (ইনটেনজিবল) উপাদান থেকেই শুরু হতে পারে সাংস্কৃতিক সহিংসতা। এটা নির্ভর করে মানুষ বা একটি গোষ্ঠী তার ভাবাদর্শ কেমন করে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, এর ওপর।

‘সীমান্ত ছাড়িয়ে সংস্কৃতির লড়াই’ শীর্ষক অধিবেশন সঞ্চালনা করেন কানাডায় আফগানিস্তান সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ইরফান ইয়ার। সাংস্কৃতিক লড়াই কী, এর সংজ্ঞা এবং সাংস্কৃতিক লড়াই হ্রাসের উপায় নিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন প্যানেলিস্টদের। আলোচনা শেষে ছিল শ্রোতাদের প্রশ্নোত্তর পর্ব। তিনজন আলোচকই বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এটি সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) দ্বিতীয় সম্মেলন। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। বিশ্বের ৭৫টি দেশের গবেষক, শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিকসহ বিভিন্ন পেশার ২০০ জন গুরুত্বপূর্ণ বক্তা উপস্থিত থাকবেন। তিন দিনের সম্মেলনে ৫০টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের আলোচ্য বিষয় ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় ইস্যু ও ভূরাজনীতি।