ঢাকা ১২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

চুলের জন্য দুবার স্কুল থেকে বরখাস্ত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৭:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১০০ বার পড়া হয়েছে

নিজেকে সুন্দর দেখাতে একেক মানুষ একেকভাবে চুল কাটেন, চুল সাজান। তাই বলে কোনো শিক্ষার্থীর চুলের স্টাইল পছন্দ না হলে তাকে স্কুল থেকে বরখাস্তের কথা তেমন একটা শোনা যায় না। কিন্তু এমন ঘটনাই ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের চেম্বারস কাউন্টির মন্ট ভেলভিউতে।

দুই সপ্তাহের শাস্তি শেষ করে গত সোমবার স্কুলে এসেছিল সে। আবার একইভাবে চুলে বেঁধে (ড্রেডলকস স্টাইল) স্কুলে যায় ড্যারিল জর্জ (১৭)। তাই আবার তাকে একই শাস্তি দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।
ড্যারিল মন্ট ভেলভিউর বারবারস হিল হাইস্কুলে ঘটেছে এই ঘটনা। স্কুল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ড্যারিলের ছোট ছোট বেনি বাঁধা চুল তার চোখের নিচে, কানের নিচে এসে পড়ে, যা তাদের প্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধির লঙ্ঘন। তবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর মা দারেশা জর্জ।

চুলের কারণে ড্যারিল গত ৩১ আগস্ট স্কুল থেকে প্রথম সাময়িক বরখাস্ত হয়। শাস্তির কথা শুনে সে কান্না করে। তার মা দারেশা বলেন, একটি ছোট্ট ঘরে বেঞ্চে আট ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। এটি খুবই অস্বস্তিকর। প্রতিদিন সে বাড়িতে এসে বলে, দীর্ঘ সময় টুলে বসে থাকার কারণে তার পিঠে খুব ব্যথা হয়।’

দারেশা বলেন, ‘আমাদের পরিবারে সব পুরুষের চুলই ড্রেডলকস স্টাইলে রাখা। এই স্টাইল আমাদের পূর্বসুরিদের কাছ থেকেই এসেছে। ঐতিহ্য ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ওই চুলের স্টাইলের গুরুত্ব অনেক। আমাদের শক্তির জায়গা এই চুল। এটি আমাদের শিকড়।’
দারেশা জর্জ বলেন, ১০ বছর ধরে ড্যারিল তাঁর ড্রেডলক চুল বড় করছে। এ নিয়ে তার পরিবার কোনো ধরনের নেতিবাচক কথা বা অভিযোগ শোনেনি। চুলগুলো ছেড়ে দিলে কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ড্যারিল স্কুলে গেলে তার সব চুল একসঙ্গে ওপরের দিকে বেঁধে রাখে। এতে কীভাবে পোশাকবিধির লঙ্ঘন হলো, তা দারিশা বুঝতে পারছেন না।

স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের পোশাকবিধির সপক্ষে বলছে, এই নীতিমালার উদ্দেশ্য হলো ‘গ্রুমিং, স্বাস্থ্যবিধি, শৃঙ্খলা ও কর্তৃপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন’ শেখানো।
বার্বাস হিল হাইস্কুলে ড্যারিল জর্জ এ বছরই প্রথম পড়ছে। গত বছর সে এই স্কুলের অদূরে টেক্সাসের বেটাউনে পড়ত। সেখানেও তার চুলের স্টাইল একই ছিল। কিন্তু সেখানে তার কোনো সমস্যা হয়নি বলে দাবি করেন দারেশা। ওই শিক্ষার্থীর মা বলেন, ব্যক্তিগত কারণেই তাঁরা সম্প্রতি মন্ট ভেলভিউ এলাকায় আসেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চুলের জন্য দুবার স্কুল থেকে বরখাস্ত

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

নিজেকে সুন্দর দেখাতে একেক মানুষ একেকভাবে চুল কাটেন, চুল সাজান। তাই বলে কোনো শিক্ষার্থীর চুলের স্টাইল পছন্দ না হলে তাকে স্কুল থেকে বরখাস্তের কথা তেমন একটা শোনা যায় না। কিন্তু এমন ঘটনাই ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের চেম্বারস কাউন্টির মন্ট ভেলভিউতে।

দুই সপ্তাহের শাস্তি শেষ করে গত সোমবার স্কুলে এসেছিল সে। আবার একইভাবে চুলে বেঁধে (ড্রেডলকস স্টাইল) স্কুলে যায় ড্যারিল জর্জ (১৭)। তাই আবার তাকে একই শাস্তি দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।
ড্যারিল মন্ট ভেলভিউর বারবারস হিল হাইস্কুলে ঘটেছে এই ঘটনা। স্কুল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ড্যারিলের ছোট ছোট বেনি বাঁধা চুল তার চোখের নিচে, কানের নিচে এসে পড়ে, যা তাদের প্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধির লঙ্ঘন। তবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর মা দারেশা জর্জ।

চুলের কারণে ড্যারিল গত ৩১ আগস্ট স্কুল থেকে প্রথম সাময়িক বরখাস্ত হয়। শাস্তির কথা শুনে সে কান্না করে। তার মা দারেশা বলেন, একটি ছোট্ট ঘরে বেঞ্চে আট ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। এটি খুবই অস্বস্তিকর। প্রতিদিন সে বাড়িতে এসে বলে, দীর্ঘ সময় টুলে বসে থাকার কারণে তার পিঠে খুব ব্যথা হয়।’

দারেশা বলেন, ‘আমাদের পরিবারে সব পুরুষের চুলই ড্রেডলকস স্টাইলে রাখা। এই স্টাইল আমাদের পূর্বসুরিদের কাছ থেকেই এসেছে। ঐতিহ্য ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ওই চুলের স্টাইলের গুরুত্ব অনেক। আমাদের শক্তির জায়গা এই চুল। এটি আমাদের শিকড়।’
দারেশা জর্জ বলেন, ১০ বছর ধরে ড্যারিল তাঁর ড্রেডলক চুল বড় করছে। এ নিয়ে তার পরিবার কোনো ধরনের নেতিবাচক কথা বা অভিযোগ শোনেনি। চুলগুলো ছেড়ে দিলে কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ড্যারিল স্কুলে গেলে তার সব চুল একসঙ্গে ওপরের দিকে বেঁধে রাখে। এতে কীভাবে পোশাকবিধির লঙ্ঘন হলো, তা দারিশা বুঝতে পারছেন না।

স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের পোশাকবিধির সপক্ষে বলছে, এই নীতিমালার উদ্দেশ্য হলো ‘গ্রুমিং, স্বাস্থ্যবিধি, শৃঙ্খলা ও কর্তৃপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন’ শেখানো।
বার্বাস হিল হাইস্কুলে ড্যারিল জর্জ এ বছরই প্রথম পড়ছে। গত বছর সে এই স্কুলের অদূরে টেক্সাসের বেটাউনে পড়ত। সেখানেও তার চুলের স্টাইল একই ছিল। কিন্তু সেখানে তার কোনো সমস্যা হয়নি বলে দাবি করেন দারেশা। ওই শিক্ষার্থীর মা বলেন, ব্যক্তিগত কারণেই তাঁরা সম্প্রতি মন্ট ভেলভিউ এলাকায় আসেন।