ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

কক্সবাজার পৌরসভার সুগন্ধা বিচ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে কিশোর গ্যাং এর লিডারসহ আলম গ্রুপের সাত সদস্য কর্তৃক গ্রেফতার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪ ৩০ বার পড়া হয়েছে

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

কক্সবাজার জেলার সদর থানাধীন কক্সবাজার পৌরসভার সুগন্ধা বিচ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে কিশোর গ্যাং এর লিডারসহ আলম গ্রুপের সাত জন সদস্য র‌্যাব-১৫ কর্তৃক গ্রেফতার

১। র‌্যাব-১৫, কক্সবাজার দায়িত্বপূর্ণ এলাকার অপরাধ নির্মূলে প্রতিনিয়ত অবদান রেখে চলেছে। দায়িত্বাধীন এলাকায় হত্যা, ধর্ষণ, জঙ্গী, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, জলদস্যু, ডাকাত, চুরি-ছিনতাই, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক, অপহরণ ও গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত আসামী গ্রেফতারসহ দেশে বিরাজমান নানাবিধ অপরাধ দমনে আন্তরিকতার সহিত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

২। কক্সবাজার শহরে দিন দিন বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ। এলাকা দাবড়ে বেড়াচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এরা কখনও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে, স্কুলগামী ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করছে, আবার কখনও বা বিভিন্ন স্পট থেকে ছিনতাই করছে। কিশোর গ্যাং এর কারণে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা মারাত্বকভাবে নষ্ট হচ্ছে। জানাগেছে, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দুই শতাধিক কিশোর গ্যাং সদস্যদের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে স্কুল কলেজ শুরু এবং ছুটির সময় কিশোর গ্যাং নামের বখাটেরা উক্ত পয়েন্ট সমুহে প্রতিদিন ভীড় করছে। তাদের উৎপাতের কারণে অনেক অভিভাবক উৎকন্ঠায় সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাচ্ছেন না। আবার অনেক কিশোর গ্যাং আধিপাত্য বিস্তারে জড়িয়ে পড়ছে খুন খারাবিতে। তাদের দমনে প্রশাসন সক্রিয় থাকলেও শহরের কোথাও না কোথাও ঘটছে তাদের উৎপাতজনিত অপরাধ। এ প্রেক্ষিতে আলোচিত সব কিশোর গ্যাং চক্রকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র‌্যাব-১৫ এর গোয়েন্দা নজরদারি ও তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়।

৩। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১৫, কক্সবাজার এর আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কক্সবাজার সদর থানাধীন পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের সুগন্ধা বিচ এলাকায় একটি ডাকাত দল ডাকাতি সংঘঠনের উদ্দেশ্যে সমাবেত হয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৮ মে ২০২৪ তারিখ অনুমান ২৩.৩০ ঘটিকার সময় র‌্যাব-১৫, সিপিএসসি ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল বর্ণিত স্থানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনাকরাকালে আভিযানিক দল কক্সবাজার সদর থানাধীন পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের সুগন্ধা বিচ এলাকার বিসমিল্লাহ বিরানী হাউজ এর উত্তর পশ্চিম পার্শ্বে ঝাউবনের ভিতর পৌঁছালে র‌্যাবের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ডাকাতদলের সদস্যরা তাদের হাতে থাকা অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে দিক-বিদিক দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে সাতজনকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন অন্ধকারে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে উপস্থিত স্বাক্ষীদের সম্মুখে গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত হতে ০২টি ছুরি, ০১টি রেত, ০১টি হাতুড়ি, ০১টি লোহার রেঞ্জ, ০২টি স্মার্টফোন, ০২টি বাটন ফোন এবং নগদ ৩,১৪০/ (তিন হাজার একশত চল্লিশ) টাকা উদ্ধার করা হয়।

৪। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিস্তারিত পরিচয় :

১) শাহ আলাম (৪০), পিতা-কলম উল্লাহ, মাতা-সকিনা বেগম, সাং-লাইট হাউজ পাড়া, ১২নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
২) সোহেল (২১), পিতা-সুলতান, মাতা-লায়লা আক্তার, সাং-পাহাড়তলী, ৭নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
৩) আনোয়ার ইসলাম প্রকাশ সাগর (১৮), পিতা-মোঃ নাছির, মাতা-সাবানা আক্তার, সাং-আলিকজান, ৫নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
৪) মোঃ জিহাদ (২১), পিতা-ইউনুস, মাতা-ডেজি, সাং-উত্তর পাহাড়তলী, ৭নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
৫) মোঃ জসিম উদ্দিন (২০), পিতা-মোঃ সোলাইমান জাহাঙ্গীর, মাতা-জমিলা বেগম, সাং-উত্তর নুনিয়াছড়া, পানিরকূপ পাড়া, ২নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
৬) তৈয়বুল হাসান (২০), পিতা-মনির আহম্মদ, মাতা-লায়লা বেগম, সাং-উত্তর নুনিয়াছড়া, পানিরকূপ পাড়া, ২নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
৭) মোঃ রশিদ উল্লাহ (১৯), পিতা-আরিফ উল্লাহ, মাতা-ছমিরা খাতুন, সাং-উত্তর নুনিয়াছড়া, পানিরকূপ পাড়া, ২নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।

৫। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা সকলেই কক্সবাজারের আলোচিত কিশোরগ্যাং আলম গ্রুপের সদস্য। উক্ত বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন গ্রুপের সাথে জড়িয়ে বিশেষ করে রাতের বেলায় শহরের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই, চুরি, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে মর্মে স্বীকার করে।

৬। উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত ও অজ্ঞাতনামা কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কক্সবাজার পৌরসভার সুগন্ধা বিচ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে কিশোর গ্যাং এর লিডারসহ আলম গ্রুপের সাত সদস্য কর্তৃক গ্রেফতার

আপডেট সময় : ১২:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

কক্সবাজার জেলার সদর থানাধীন কক্সবাজার পৌরসভার সুগন্ধা বিচ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে কিশোর গ্যাং এর লিডারসহ আলম গ্রুপের সাত জন সদস্য র‌্যাব-১৫ কর্তৃক গ্রেফতার

১। র‌্যাব-১৫, কক্সবাজার দায়িত্বপূর্ণ এলাকার অপরাধ নির্মূলে প্রতিনিয়ত অবদান রেখে চলেছে। দায়িত্বাধীন এলাকায় হত্যা, ধর্ষণ, জঙ্গী, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, জলদস্যু, ডাকাত, চুরি-ছিনতাই, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক, অপহরণ ও গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত আসামী গ্রেফতারসহ দেশে বিরাজমান নানাবিধ অপরাধ দমনে আন্তরিকতার সহিত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

২। কক্সবাজার শহরে দিন দিন বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ। এলাকা দাবড়ে বেড়াচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এরা কখনও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে, স্কুলগামী ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করছে, আবার কখনও বা বিভিন্ন স্পট থেকে ছিনতাই করছে। কিশোর গ্যাং এর কারণে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা মারাত্বকভাবে নষ্ট হচ্ছে। জানাগেছে, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দুই শতাধিক কিশোর গ্যাং সদস্যদের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে স্কুল কলেজ শুরু এবং ছুটির সময় কিশোর গ্যাং নামের বখাটেরা উক্ত পয়েন্ট সমুহে প্রতিদিন ভীড় করছে। তাদের উৎপাতের কারণে অনেক অভিভাবক উৎকন্ঠায় সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাচ্ছেন না। আবার অনেক কিশোর গ্যাং আধিপাত্য বিস্তারে জড়িয়ে পড়ছে খুন খারাবিতে। তাদের দমনে প্রশাসন সক্রিয় থাকলেও শহরের কোথাও না কোথাও ঘটছে তাদের উৎপাতজনিত অপরাধ। এ প্রেক্ষিতে আলোচিত সব কিশোর গ্যাং চক্রকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র‌্যাব-১৫ এর গোয়েন্দা নজরদারি ও তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়।

৩। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১৫, কক্সবাজার এর আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কক্সবাজার সদর থানাধীন পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের সুগন্ধা বিচ এলাকায় একটি ডাকাত দল ডাকাতি সংঘঠনের উদ্দেশ্যে সমাবেত হয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৮ মে ২০২৪ তারিখ অনুমান ২৩.৩০ ঘটিকার সময় র‌্যাব-১৫, সিপিএসসি ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল বর্ণিত স্থানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনাকরাকালে আভিযানিক দল কক্সবাজার সদর থানাধীন পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের সুগন্ধা বিচ এলাকার বিসমিল্লাহ বিরানী হাউজ এর উত্তর পশ্চিম পার্শ্বে ঝাউবনের ভিতর পৌঁছালে র‌্যাবের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ডাকাতদলের সদস্যরা তাদের হাতে থাকা অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে দিক-বিদিক দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে সাতজনকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন অন্ধকারে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে উপস্থিত স্বাক্ষীদের সম্মুখে গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত হতে ০২টি ছুরি, ০১টি রেত, ০১টি হাতুড়ি, ০১টি লোহার রেঞ্জ, ০২টি স্মার্টফোন, ০২টি বাটন ফোন এবং নগদ ৩,১৪০/ (তিন হাজার একশত চল্লিশ) টাকা উদ্ধার করা হয়।

৪। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিস্তারিত পরিচয় :

১) শাহ আলাম (৪০), পিতা-কলম উল্লাহ, মাতা-সকিনা বেগম, সাং-লাইট হাউজ পাড়া, ১২নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
২) সোহেল (২১), পিতা-সুলতান, মাতা-লায়লা আক্তার, সাং-পাহাড়তলী, ৭নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
৩) আনোয়ার ইসলাম প্রকাশ সাগর (১৮), পিতা-মোঃ নাছির, মাতা-সাবানা আক্তার, সাং-আলিকজান, ৫নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
৪) মোঃ জিহাদ (২১), পিতা-ইউনুস, মাতা-ডেজি, সাং-উত্তর পাহাড়তলী, ৭নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
৫) মোঃ জসিম উদ্দিন (২০), পিতা-মোঃ সোলাইমান জাহাঙ্গীর, মাতা-জমিলা বেগম, সাং-উত্তর নুনিয়াছড়া, পানিরকূপ পাড়া, ২নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
৬) তৈয়বুল হাসান (২০), পিতা-মনির আহম্মদ, মাতা-লায়লা বেগম, সাং-উত্তর নুনিয়াছড়া, পানিরকূপ পাড়া, ২নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
৭) মোঃ রশিদ উল্লাহ (১৯), পিতা-আরিফ উল্লাহ, মাতা-ছমিরা খাতুন, সাং-উত্তর নুনিয়াছড়া, পানিরকূপ পাড়া, ২নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।

৫। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা সকলেই কক্সবাজারের আলোচিত কিশোরগ্যাং আলম গ্রুপের সদস্য। উক্ত বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন গ্রুপের সাথে জড়িয়ে বিশেষ করে রাতের বেলায় শহরের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই, চুরি, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে মর্মে স্বীকার করে।

৬। উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত ও অজ্ঞাতনামা কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।