ঢাকা ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ৪০ শতাংশ চাকরিতে প্রভাব ফেলবে, পূর্বাভাস আইএমএফের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৪ ১৯৫ বার পড়া হয়েছে

ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড বা আইএমএফের নতুন এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সব ধরণের চাকরির প্রায় ৪০ শতাংশকে প্রভাবিত করবে।

আইএমএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, “বেশির ভাগ পরিস্থিতিতে এআই সম্ভবত সামগ্রিকভাবে বৈষম্যকে আরো ভয়াবহ করবে। ”

মিস জর্জিয়েভা আরো যোগ করেন, প্রযুক্তিকে প্রতিরোধ করতে নীতি নির্ধারকদের উচিত এই ‘সংকটজনক প্রবণতা’ নিয়ে আলোচনা করা।

এআই-এর বিস্তারের সুবিধা এবং ঝুঁকিগুলোকে এর কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।
আইএমএফ বলছে, এআই উন্নত অর্থনীতির একটা বৃহৎ অংশের চাকরিতে প্রভাব ফেলবে।এটা প্রায় ৬০ শতাংশের মতো।

এর অর্ধেক ক্ষেত্রে, কর্মীরা এআই-এর একাগ্রতা থেকে সুবিধা পাওয়ার আশা করতে পারে, যা তাদের উৎপাদনশীলতাকে সমৃদ্ধ করবে।

অন্য ভাবে বলা যায়, এআই-এর সে সব কাজ করার ক্ষমতা রয়েছে যা এখন মানুষ করছে। এটা শ্রমের চাহিদা কমাতে পারে, মজুরিতে প্রভাব এবং এমনকি চাকরি চলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটাতে পারে।

এদিকে, আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয় যে, এই প্রযুক্তি স্বল্প আয়ের দেশে ২৬ শতাংশ চাকরিতে প্রভাব ফেলবে।

এই প্রতিবেদন ২০২৩ সালে গোল্ডম্যান স্যাকসের একটা প্রতিবেদনের অনুরূপ।

যাতে বলা হয়েছিলো, এআই তিনশ মিলিয়ন পূর্ণকালীন চাকরির সমান প্রতিস্থাপন করতে পারে। কিন্তু আরো বলা হয়েছে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন চাকরিও হতে পারে।

এরই মধ্যে, নভেম্বরে ইউকের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছেন, চাকরিতে এআই-এর প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ শিক্ষার যে সংস্কার হয়েছে তা দক্ষতার সংস্কারে আরো বেশি বৃদ্ধি করবে।

মিস জর্জিয়েভা বলেছেন, “বেশির ভাগ দেশের এআই এর সুবিধা ব্যবহারের মতো অবকাঠামো বা দক্ষ জনশক্তি নেই। সময়ের সাথে সাথে জাতিগুলোর মধ্যে এই প্রযুক্তি বৈষম্যকে আরো প্রকট করে তুলবে।”

আরো সাধারণভাবে বলা যায়, এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করার পরে উচ্চ আয় এবং তরুণ কর্মীরা তাদের মজুরি অসমভাবে বৃদ্ধির বিষয়টি দেখতে পাবে।

আইএমএফের বিশ্বাস, নিম্ন আয় এবং বৃদ্ধ কর্মীরা পেছনে পড়ে যাবেন এআই প্রযুক্তির কারণে।
মিস জর্জিয়েভা বলেন, “ব্যাপক সামাজিক নিরাপত্তা জাল তৈরি করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ কর্মীদের জন্য আবার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা দেশগুলোর জন্য খুবই কঠিন।”

“এটা করে আমরা এআইকে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপে রূপান্তর করতে পারি, জীবিকা রক্ষা করতে পারি এবং বৈষম্যকে রোধ করতে পারি”, বলেন মিস জর্জিয়েভা।

সুইটজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের বৈঠকে যখন বৈশ্বিক ব্যবসা ও রাজনৈতিক নেতারা একত্র হয়েছেন তখনই আইএমএফের এই বিশ্লেষণ এলো।

চ্যাটজিপিটির মতো অ্যাপ্লিকেশনের জনপ্রিয়তা বাড়ার পর এআই আলোচনায় আসে।

বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি এই বর্ধিত নিয়ন্ত্রণের সম্মুখীন হচ্ছে।

গত মাসে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের কর্মকর্তারা এআই-এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের প্রথম আইনের একটি অস্থায়ী চুক্তিতে পৌছেছেন।

চীন এআই-এর উপর বিশ্বের প্রথম জাতীয় বিধান প্রবর্তন করেছে, যার মধ্যে অ্যালগরিদমগুলি কীভাবে তৈরি এবং স্থাপন করা যেতে পারে সে সম্পর্কিত নিয়মগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন অক্টোবরে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন, যা ডেভেলপারদের মার্কিন সরকারের সাথে এআই সম্পর্কিত সুরক্ষা ফলাফলগুলি শেয়ার করতে বাধ্য করে।

পরের মাসে যুক্তরাজ্য একটি এআই সেফটি সামিটের আয়োজন করেছিল, যেখানে প্রযুক্তির নিরাপদ উন্নয়নের বিষয়ে একটি ঘোষণাপত্রে একাধিক দেশ স্বাক্ষর করেছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ৪০ শতাংশ চাকরিতে প্রভাব ফেলবে, পূর্বাভাস আইএমএফের

আপডেট সময় : ০৯:০০:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৪

ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড বা আইএমএফের নতুন এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সব ধরণের চাকরির প্রায় ৪০ শতাংশকে প্রভাবিত করবে।

আইএমএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, “বেশির ভাগ পরিস্থিতিতে এআই সম্ভবত সামগ্রিকভাবে বৈষম্যকে আরো ভয়াবহ করবে। ”

মিস জর্জিয়েভা আরো যোগ করেন, প্রযুক্তিকে প্রতিরোধ করতে নীতি নির্ধারকদের উচিত এই ‘সংকটজনক প্রবণতা’ নিয়ে আলোচনা করা।

এআই-এর বিস্তারের সুবিধা এবং ঝুঁকিগুলোকে এর কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।
আইএমএফ বলছে, এআই উন্নত অর্থনীতির একটা বৃহৎ অংশের চাকরিতে প্রভাব ফেলবে।এটা প্রায় ৬০ শতাংশের মতো।

এর অর্ধেক ক্ষেত্রে, কর্মীরা এআই-এর একাগ্রতা থেকে সুবিধা পাওয়ার আশা করতে পারে, যা তাদের উৎপাদনশীলতাকে সমৃদ্ধ করবে।

অন্য ভাবে বলা যায়, এআই-এর সে সব কাজ করার ক্ষমতা রয়েছে যা এখন মানুষ করছে। এটা শ্রমের চাহিদা কমাতে পারে, মজুরিতে প্রভাব এবং এমনকি চাকরি চলে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটাতে পারে।

এদিকে, আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয় যে, এই প্রযুক্তি স্বল্প আয়ের দেশে ২৬ শতাংশ চাকরিতে প্রভাব ফেলবে।

এই প্রতিবেদন ২০২৩ সালে গোল্ডম্যান স্যাকসের একটা প্রতিবেদনের অনুরূপ।

যাতে বলা হয়েছিলো, এআই তিনশ মিলিয়ন পূর্ণকালীন চাকরির সমান প্রতিস্থাপন করতে পারে। কিন্তু আরো বলা হয়েছে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন চাকরিও হতে পারে।

এরই মধ্যে, নভেম্বরে ইউকের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছেন, চাকরিতে এআই-এর প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ শিক্ষার যে সংস্কার হয়েছে তা দক্ষতার সংস্কারে আরো বেশি বৃদ্ধি করবে।

মিস জর্জিয়েভা বলেছেন, “বেশির ভাগ দেশের এআই এর সুবিধা ব্যবহারের মতো অবকাঠামো বা দক্ষ জনশক্তি নেই। সময়ের সাথে সাথে জাতিগুলোর মধ্যে এই প্রযুক্তি বৈষম্যকে আরো প্রকট করে তুলবে।”

আরো সাধারণভাবে বলা যায়, এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করার পরে উচ্চ আয় এবং তরুণ কর্মীরা তাদের মজুরি অসমভাবে বৃদ্ধির বিষয়টি দেখতে পাবে।

আইএমএফের বিশ্বাস, নিম্ন আয় এবং বৃদ্ধ কর্মীরা পেছনে পড়ে যাবেন এআই প্রযুক্তির কারণে।
মিস জর্জিয়েভা বলেন, “ব্যাপক সামাজিক নিরাপত্তা জাল তৈরি করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ কর্মীদের জন্য আবার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা দেশগুলোর জন্য খুবই কঠিন।”

“এটা করে আমরা এআইকে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপে রূপান্তর করতে পারি, জীবিকা রক্ষা করতে পারি এবং বৈষম্যকে রোধ করতে পারি”, বলেন মিস জর্জিয়েভা।

সুইটজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের বৈঠকে যখন বৈশ্বিক ব্যবসা ও রাজনৈতিক নেতারা একত্র হয়েছেন তখনই আইএমএফের এই বিশ্লেষণ এলো।

চ্যাটজিপিটির মতো অ্যাপ্লিকেশনের জনপ্রিয়তা বাড়ার পর এআই আলোচনায় আসে।

বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি এই বর্ধিত নিয়ন্ত্রণের সম্মুখীন হচ্ছে।

গত মাসে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের কর্মকর্তারা এআই-এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের প্রথম আইনের একটি অস্থায়ী চুক্তিতে পৌছেছেন।

চীন এআই-এর উপর বিশ্বের প্রথম জাতীয় বিধান প্রবর্তন করেছে, যার মধ্যে অ্যালগরিদমগুলি কীভাবে তৈরি এবং স্থাপন করা যেতে পারে সে সম্পর্কিত নিয়মগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন অক্টোবরে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন, যা ডেভেলপারদের মার্কিন সরকারের সাথে এআই সম্পর্কিত সুরক্ষা ফলাফলগুলি শেয়ার করতে বাধ্য করে।

পরের মাসে যুক্তরাজ্য একটি এআই সেফটি সামিটের আয়োজন করেছিল, যেখানে প্রযুক্তির নিরাপদ উন্নয়নের বিষয়ে একটি ঘোষণাপত্রে একাধিক দেশ স্বাক্ষর করেছিল।