ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

আবুল মনসুর আহমদ: সাংবাদিকতার অনন্য শেরপা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১০১ বার পড়া হয়েছে

আজ ৩ সেপ্টেম্বর প্রখ্যাত সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ১৮৯৮ সালের এদিনে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে জন্মগ্রহণ করেন। আবুল মনসুর আহমদ ১৮ মার্চ ১৯৭৯ সালে ৮০ বছর বয়সে মারা যান। এ বছর আবুল মনসুর আহমদের সাংবাদিকতার শত বছর পূর্ণ হলো। তিনি ১৯২৩ সালে কলকাতার সাপ্তাহিক ‘ছোলতান’-এ যোগদানের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। উল্লেখ্য, তিনি একাধারে সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ছিলেন।

আবুল মনসুর আহমদ ওজস্বী ও বুদ্ধিবৃত্তিক সাংবাদিকতার পথিকৃৎ। ওজস্বিতা, ভাষার প্রাঞ্জলতা আর বুদ্ধি বা যুক্তি তাঁর সত্যনিষ্ঠ বক্তব্য। তাঁর লেখায় রয়েছে প্রাঞ্জলতা, মাধুর্য আর যুক্তির বিন্যাস। আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিকতার এক অনন্য শেরপা।
বলা যায়, মানুষই হচ্ছে সাংবাদিকতার মূল বিষয়। আবুল মনসুর আহমদের সাংবাদিকতা সে জায়গাতেই অটুট ছিল। পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক নিপীড়ন, অন্যায্যতা, দুর্নীতি ও নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে লিখেছেন। সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর কলম চলেছে সমান গতিতে। তিনি লেখায় প্রগতিশীল সমাজের আকাঙ্ক্ষা জিইয়ে রেখেছেন।

আবুল মনসুর আহমদের ধমনিতে রাজনীতি, সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ত্রিধারা বহমান। ত্রিধারার সমন্বয়ে তাঁর গড়ে উঠেছে মনোকাঠামো ও এক গ্র্যান্ড-এক্সপ্রেশন বা বৃহৎ অভিব্যক্তি। তিনি বৃহৎ বাংলার বৃহৎ মননের স্মারক। আমজনতার মুখপাত্র।
সাংবাদিকতা রাজনীতি-নিরপেক্ষ বিষয় নয়, আবুল মনসুর আহমদ তা ভালোভাবে রপ্ত করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সাংবাদিকতার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রাজনীতি। রাজনীতিতে পার্টিগত ও শ্রেণিগত মতভেদ অপরিহার্য, কিন্তু এই মতভেদ সত্ত্বেও সাধু সাংবাদিকতা সম্ভব।’ আবুল মনসুর আহমদ এ ধারায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তাঁর নিশানা রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। তিনি চিন্তায় আধুনিক ও প্রতিশ্রুতিশীল। আবুল মনসুর আহমদের সাংবাদিকতার শিক্ষা হলো মানুষের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।

সাংবাদিকতায় গুরুমুখী বিদ্যার কথা আবুল মনসুর আহমদ তাঁর আত্মকথায় উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষার দক্ষতা নির্মিত হয়েছে দুজন গুরু—ফজলুল হক সেলবর্সী ও ওয়াজেদ আলীর সান্নিধ্যে। তিনি লিখেছেন, ‘সেলবর্সী সাহেবের লেখা ছিল হৃদয়স্পর্শী উচ্ছ্বাস; তিনি যুক্তিতর্কের ধারেকাছে যাইতেন না। পক্ষান্তরে ওয়াজেদ আলী সাহেবের লেখা ছিল যুক্তিপূর্ণ, তিনি উচ্ছ্বাসের ধারে-কাছেও যেতেন না। আমি একাধারে ওজস্বিতা ও যুক্তিপূর্ণ বহু সম্পাদকীয় লিখিয়া সাংবাদিক মহলে প্রশংসা অর্জন করিলাম।’

‘দ্য মুসলমান’-এর সম্পাদক মৌলভি মুজিবর রহমানের কাছ থেকে আবুল মনসুর আহমদ সমালোচনার ব্যাকরণ শেখেন। মৌলভি মুজিবর রহমানকে উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, ‘তুমি জান একজন মিথ্যা কথা বলছেন, তার কথা লিখিতে গিয়ে কখনো লিখিও না তিনি মিথ্যাবাদী বা তিনি মিথ্যা কথা বলেছেন। বরং তার বদলে লিখবে, তিনি সত্যবাদী নন।’ এ শিক্ষা আবুল মনসুর আহমদের জীবনে পাথেয় হিসেবে কাজ করেছে।

আবুল মনসুর আহমদ গ্রহণোন্মুখ ব্যক্তিত্ব। সহকর্মী, জ্যেষ্ঠ ও অনুজ ব্যক্তিদের পাশাপাশি সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে চিন্তাচেতনা শাণিত করেছেন। তিনি সংস্কারমুক্ত ছিলেন, ছিলেন খোলামনের অধিকারী। যুক্তির পরাকাষ্ঠে সবকিছু যাচাই করতেন। আবুল মনসুর আহমদ গুরুদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আর অনুজদের প্রতি স্নেহশীল ছিলেন। সাংবাদিকতা পেশার উৎকর্ষে তিনি গুরু-চ্যালাপরম্পরা চর্চা করতেন।

আবুল মনসুর আহমদ কলাম লিখতেন, সংবাদ ব্যবস্থাপনা-সম্পাদনা করতেন, শিরোনাম লিখতেন, সংবাদের ট্রিটমেন্ট ও মেকআপ দেখতেন। তিনি কম্পোজিটর ও মেশিনম্যানদের সঙ্গে থেকে কাজ করতেন। এ সময় তিনি লক্ষ করেন, ‘সাংবাদিকতায় জ্যেষ্ঠরা অনুজদের কাঁধে দায়িত্ব চাপিয়ে দিতে পছন্দ করেন।’ তিনি মন্তব্য করেন, ‘জুনিয়র স্তরের এ খাটুনি তার জীবনে খুব কাজে লেগেছিল।’

আবুল মনসুর আহমদ কপি এডিট করতে খুব পছন্দ করতেন। এই বিশেষ গুণ তিনি শাণিত করেছেন চর্চার মধ্য দিয়ে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘সম্পাদনার কাজ অনেকে সহজ মনে করেন। আসলে তা মোটেও সহজ নয়। প্রুফ রিডিং কেবল টেকনিক্যাল জ্ঞানের বিষয় নয়, এটা একটা বিশেষ আর্ট, জ্ঞানের চেয়ে দক্ষতা ও নিপুণতা এ কাজে অধিক আবশ্যক।’ তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটিশদের শাসনাধীন থাকায় এ সময় সংবাদপত্র সম্পাদনার ক্ষেত্রে মানহানি বা রাষ্ট্রদ্রোহ এড়াতে সম্পাদনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হতো।

আবুল মনসুর আহমদ যেসব সংবাদপত্রে কাজ করেছেন, সেখানে সম্পাদকীয় বিভাগকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন। তিনি ‘মোহম্মদী’তে ‘রক্তচক্ষু’ ‘বজ্রমুষ্টি’ ও ‘সিংহনিনাদ’ উদ্দীপনা সৃষ্টি করেন। বিভিন্ন সংবাদপত্রে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অর্থসংকট, মালিকের বৈরী আচরণ, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের শিকার হন। কিন্তু সম্পাদক হিসেবে নীতির প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। আবুল মনসুর আহমদের শিক্ষা হলো যেকোনো বৈরী পরিস্থিতিতে সম্পাদনা পর্ষদকে পেশাগত উৎকর্ষ ধরে রাখতে হবে, অবিচল থাকতে হবে। সংকটে নিজেকে চিনে নিতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে আপন গন্তব্যে।

আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিকতার হাতেখড়ি পর্যায় পেরিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৯৩৮ সালে দৈনিক ‘কৃষক’-এ প্রধান সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। ‘কৃষক’ চালাতে গিয়ে একপর্যায়ে অর্থাভাবে পড়েন। ‘কৃষক’-এ তিনি সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা, সংবাদশিল্পী, সংবাদ-বাণিজ্য—সব দিক সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন।

‘কৃষক’-এ আবুল মনসুর আহমদ ছাপাখানার আধো অন্ধকার পরিবেশ, গরমের মধ্যে কম্পোজিটর, মেশিনম্যানের কাঁধের কাছে দাঁড়িয়ে কাজ দেখতেন। কম্পোজিটররা সংকীর্ণ ও আলো-বাতাসহীন কুঠুরিতে বসে দিনরাত সিসা হাতিয়ে কীভাবে শরীর, স্বাস্থ্য ও চোখ নষ্ট করছে, তা দেখে তিনি শিহরিত হতেন। প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, অভাব দূর হলে তাঁদের জন্য দু-চারটা ফ্যানের ব্যবস্থা করবেন। ‘কৃষক’-এ পারেননি, তবে পরবর্তীকালে অন্যত্র তা করেছেন। সহকর্মীদের ব্যাপারে তাঁর ভেতর এক সংবেদনশীল মনের সন্ধান পাওয়া যায়।

‘কৃষক’-এ একটি বড় বিতর্ক ওঠে—খবরের কাগজ কার মতানুসারে চলবে: মালিক, না সম্পাদকের? আবুল মনসুর আহমদ সম্পাদকীয় লেখেন—‘মালিকের মত চলবে’। যাঁর টাকা তাঁর কর্তব্য। সাংবাদিক সে ক্ষেত্রে মালিককে সদুপদেশ দিতে পারেনমাত্র। মালিক যদি সে উপদেশ না রাখেন, তবে সাংবাদিককে কাগজের মালিকের কথা লিখতে হবে। আবুল মনসুর আহমদের এ বক্তব্যের ভেতর হতাশার সুর পাওয়া যায়। কারণ, সংবাদপত্র প্রকাশের ব্যাপারে সম্পাদকের মত চূড়ান্ত হওয়া উচিত।

বাংলা ভাষায় সংবাদপত্র বিকাশের ক্ষেত্রে হিন্দু সম্প্রদায়ের আধিপত্য নানাভাবে তাঁর লেখায় উঠে এসেছে। মুসলমানদের পক্ষে সংবাদপত্র প্রকাশ করা বা সাংবাদিকতায় চাকরি পাওয়া দুরূহ ছিল। শুধু তা-ই নয়, হিন্দুদের দ্বারা পরিচালিত সংবাদপত্রগুলো মুসলমানদের সংবাদপত্রের প্রকাশ ও প্রচারের ব্যাপারে কত সমালোচনাত্মক ছিল, তা-ও লিখেছেন।

মুসলমান সমাজের অনগ্রসরতা আবুল মনসুর আহমদকে ভাবিয়েছে। তিনি পিছিয়ে পড়া মুসলমান যুবকদের সাংবাদিকতায় আসতে প্রণোদনা দিয়েছেন, সফলও হয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এই উদ্দেশ্যে আমাকে বেশ খুঁজিয়া-পাতিয়া অজ্ঞাত মুসলিম ট্যালেন্ট বাহির করিতে হইয়াছে।’ সাংবাদিকতায় মুসলমান শিক্ষিত যুবকদের সম্পৃক্ততার ফলে বিশ শতকের বিশের দশকে বাংলার মুসলিম মানসের যে জাগরণ ঘটে, তা বিশেষ গতি পায়।

আবুল মনসুর আহমদ তাঁর জীবদ্দশায় সংবাদপত্র প্রকাশনা যে শিল্পে পরিণত হতে যাচ্ছে, তা লক্ষ করেন। তিনি লেখেন, ‘১৯৪৭ সালে সাংবাদিকতা হইয়া উঠিয়াছিল একটি পূর্ণমাত্রার ইন্ডাস্ট্রি। সাহিত্য শাখা, মহিলা শাখা, শিশু শাখা, সিনেমা শাখা, নগর পরিক্রমা ও খেলাধুলা ইত্যাদি বিভিন্ন ফিচার দিয়া আজকাল দৈনিক খবরের কাগজকে রীতিমতো আকর্ষণীয় পঠিতব্য সাহিত্য করিয়া তোলা হইয়াছে। সকল বিভাগের পৃথক-পৃথক সম্পাদক আছেন। কাজেই দৈনিক সংবাদপত্রের আর এখন একজন মাত্র সম্পাদক নাই, বহু-সংখ্যক সম্পাদক হইয়াছেন।’

সময়ের পরিক্রমায় সংবাদপত্র আমূলে বদলে গেছে। পাঠকের বহুমুখী চাহিদা, পাঠকসংযুক্তি, প্রযুক্তির সংযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্তর্ভুক্তি সংবাদপত্রকে গতিশীল করেছে। সংবাদপত্র যে গতিশীল সত্তা, আবুল মনসুর আহমদ তা অনেক আগে চিহ্নিত করেছেন এবং পরিবর্তনের সূত্রগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন।
আবুল মনসুর আহমদ দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে ‘ইত্তেহাদ’ দাঁড় করান। তিনি ‘ইত্তেহাদ’-এ সাংবাদিকদের হাতে-কলমে শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। প্রতিদিন সম্পাদকীয় টেবিলে আলাপ-আলোচনা, পাঠক মজলিশ, হেডলাইন, ডিসপ্লে, মেকআপ, গেটআপ, টাইপ বিতরণ, প্রুফ রিডিংয়ের ফলে ‘ইত্তেহাদ’ অতিদ্রুত কলকাতায় শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় দৈনিকে পরিণত হয়।

মূলত সার্কুলেশনের কারণে ‘ইত্তেহাদ’-এর শক্র বেড়ে যায়। পূর্ব বাংলার সরকার ‘ইত্তেহাদ’ প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করলে ১৯৫০ সালে তার অপমৃত্যু ঘটে। এরপর আবুল মনসুর আহমদ ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি কাগজে কলাম লিখে সাংবাদিকতা চালিয়ে নেন। আবুল মনসুর আহমদ তাঁর আত্মকথায় সাংবাদিকতা জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সাতটি বর্গে ভাগ করেছেন, সেগুলো হলো—

১. সাংবাদিকতা নিছক সংবাদ সরবরাহ নয়, সংবাদের সুষ্ঠু ব্যাখ্যাও বটে।
২. সাংবাদিকতার সাথে রাজনীতি ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। রাজনীতিতে পার্টিগত শ্রেণিগত মতভেদ অপরিহার্য। কিন্ত এ মতভেদ সত্ত্বেও সাধু সাংবাদিকতা সম্ভব।
৩. বিরুদ্ধ পক্ষকে অভদ্র কটূক্তি না করিয়াও তার তীব্র সমালোচনা করা যাইতে পারে ভদ্রভাষায়। বস্তুত সমালোচনার ভাষা যত বেশি ভদ্র হইবে, সমালোচনা তত তীক্ষ্ণ ও ফলবতী হইবে।
৪. প্রতিটি মতবাদের সুষ্ঠু, উদার, বৈজ্ঞানিক ও নিরপেক্ষ আলোচনার দ্বারা নিজের মতের পক্ষে এবং বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে জনমত তৈয়ার করা অধিকতর সহজসাধ্য।
৫. মরহুম মৌলভি মুজিবর রহমান বলিতেন: সংবাদপত্রের কেবলমাত্র সম্পাদকীয় কলামটাই সম্পাদকের; বাকি সবটুকুই পাবলিকের। চিঠিপত্র কলামটা টাউন হল, সম্পাদকের বৈঠকখানা নয়। অতএব সংবাদ প্রকাশে নিরপেক্ষতা চাই। স্বয়ং সম্পাদকের নিন্দাপূর্ণ পত্রও চিঠিপত্র কলামে ছাপিতে হইবে।
৬. সাংবাদিকতা সাহিত্য, আর্ট, সায়েন্স, ইন্ডাস্ট্রি ও কমার্সের সমবায়। এর একটার অভাব হইলে সাংবাদিকতা ত্রুটিপূর্ণ এবং পরিণামে নিষ্ফল হইবে।
৭. বিখ্যাত সাহিত্যিক থেচারে বলিয়াছেন: ছাপার মেশিনের মতো সংবাদপত্র নিজেও একটা ইঞ্জিন। সকল যন্ত্রপাতির ঐক্য ও সংহতি অন্যান্য ইঞ্জিনের মতো প্রেসইঞ্জিনেরও অত্যাবশ্যক বটে, কিন্তু তার উপরেও প্রেসইঞ্জিনে দরকার ইন্টেলেকচুয়াল ইউনিটি।

আবুল মনসুর আহমদ উল্লেখ করেন, এই সাতটি দফা ছিল তাঁর জন্য সাংবাদিকতার ক, খ। তাঁর অনুসৃত দফাগুলো আজও প্রাসঙ্গিক ও অনুসরণযোগ্য। আবুল মনসুর আহমদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি অতল শ্রদ্ধা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আবুল মনসুর আহমদ: সাংবাদিকতার অনন্য শেরপা

আপডেট সময় : ০৬:১৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

আজ ৩ সেপ্টেম্বর প্রখ্যাত সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ১৮৯৮ সালের এদিনে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে জন্মগ্রহণ করেন। আবুল মনসুর আহমদ ১৮ মার্চ ১৯৭৯ সালে ৮০ বছর বয়সে মারা যান। এ বছর আবুল মনসুর আহমদের সাংবাদিকতার শত বছর পূর্ণ হলো। তিনি ১৯২৩ সালে কলকাতার সাপ্তাহিক ‘ছোলতান’-এ যোগদানের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। উল্লেখ্য, তিনি একাধারে সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ছিলেন।

আবুল মনসুর আহমদ ওজস্বী ও বুদ্ধিবৃত্তিক সাংবাদিকতার পথিকৃৎ। ওজস্বিতা, ভাষার প্রাঞ্জলতা আর বুদ্ধি বা যুক্তি তাঁর সত্যনিষ্ঠ বক্তব্য। তাঁর লেখায় রয়েছে প্রাঞ্জলতা, মাধুর্য আর যুক্তির বিন্যাস। আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিকতার এক অনন্য শেরপা।
বলা যায়, মানুষই হচ্ছে সাংবাদিকতার মূল বিষয়। আবুল মনসুর আহমদের সাংবাদিকতা সে জায়গাতেই অটুট ছিল। পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক নিপীড়ন, অন্যায্যতা, দুর্নীতি ও নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে লিখেছেন। সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর কলম চলেছে সমান গতিতে। তিনি লেখায় প্রগতিশীল সমাজের আকাঙ্ক্ষা জিইয়ে রেখেছেন।

আবুল মনসুর আহমদের ধমনিতে রাজনীতি, সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ত্রিধারা বহমান। ত্রিধারার সমন্বয়ে তাঁর গড়ে উঠেছে মনোকাঠামো ও এক গ্র্যান্ড-এক্সপ্রেশন বা বৃহৎ অভিব্যক্তি। তিনি বৃহৎ বাংলার বৃহৎ মননের স্মারক। আমজনতার মুখপাত্র।
সাংবাদিকতা রাজনীতি-নিরপেক্ষ বিষয় নয়, আবুল মনসুর আহমদ তা ভালোভাবে রপ্ত করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সাংবাদিকতার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রাজনীতি। রাজনীতিতে পার্টিগত ও শ্রেণিগত মতভেদ অপরিহার্য, কিন্তু এই মতভেদ সত্ত্বেও সাধু সাংবাদিকতা সম্ভব।’ আবুল মনসুর আহমদ এ ধারায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তাঁর নিশানা রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। তিনি চিন্তায় আধুনিক ও প্রতিশ্রুতিশীল। আবুল মনসুর আহমদের সাংবাদিকতার শিক্ষা হলো মানুষের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।

সাংবাদিকতায় গুরুমুখী বিদ্যার কথা আবুল মনসুর আহমদ তাঁর আত্মকথায় উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষার দক্ষতা নির্মিত হয়েছে দুজন গুরু—ফজলুল হক সেলবর্সী ও ওয়াজেদ আলীর সান্নিধ্যে। তিনি লিখেছেন, ‘সেলবর্সী সাহেবের লেখা ছিল হৃদয়স্পর্শী উচ্ছ্বাস; তিনি যুক্তিতর্কের ধারেকাছে যাইতেন না। পক্ষান্তরে ওয়াজেদ আলী সাহেবের লেখা ছিল যুক্তিপূর্ণ, তিনি উচ্ছ্বাসের ধারে-কাছেও যেতেন না। আমি একাধারে ওজস্বিতা ও যুক্তিপূর্ণ বহু সম্পাদকীয় লিখিয়া সাংবাদিক মহলে প্রশংসা অর্জন করিলাম।’

‘দ্য মুসলমান’-এর সম্পাদক মৌলভি মুজিবর রহমানের কাছ থেকে আবুল মনসুর আহমদ সমালোচনার ব্যাকরণ শেখেন। মৌলভি মুজিবর রহমানকে উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, ‘তুমি জান একজন মিথ্যা কথা বলছেন, তার কথা লিখিতে গিয়ে কখনো লিখিও না তিনি মিথ্যাবাদী বা তিনি মিথ্যা কথা বলেছেন। বরং তার বদলে লিখবে, তিনি সত্যবাদী নন।’ এ শিক্ষা আবুল মনসুর আহমদের জীবনে পাথেয় হিসেবে কাজ করেছে।

আবুল মনসুর আহমদ গ্রহণোন্মুখ ব্যক্তিত্ব। সহকর্মী, জ্যেষ্ঠ ও অনুজ ব্যক্তিদের পাশাপাশি সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে চিন্তাচেতনা শাণিত করেছেন। তিনি সংস্কারমুক্ত ছিলেন, ছিলেন খোলামনের অধিকারী। যুক্তির পরাকাষ্ঠে সবকিছু যাচাই করতেন। আবুল মনসুর আহমদ গুরুদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আর অনুজদের প্রতি স্নেহশীল ছিলেন। সাংবাদিকতা পেশার উৎকর্ষে তিনি গুরু-চ্যালাপরম্পরা চর্চা করতেন।

আবুল মনসুর আহমদ কলাম লিখতেন, সংবাদ ব্যবস্থাপনা-সম্পাদনা করতেন, শিরোনাম লিখতেন, সংবাদের ট্রিটমেন্ট ও মেকআপ দেখতেন। তিনি কম্পোজিটর ও মেশিনম্যানদের সঙ্গে থেকে কাজ করতেন। এ সময় তিনি লক্ষ করেন, ‘সাংবাদিকতায় জ্যেষ্ঠরা অনুজদের কাঁধে দায়িত্ব চাপিয়ে দিতে পছন্দ করেন।’ তিনি মন্তব্য করেন, ‘জুনিয়র স্তরের এ খাটুনি তার জীবনে খুব কাজে লেগেছিল।’

আবুল মনসুর আহমদ কপি এডিট করতে খুব পছন্দ করতেন। এই বিশেষ গুণ তিনি শাণিত করেছেন চর্চার মধ্য দিয়ে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘সম্পাদনার কাজ অনেকে সহজ মনে করেন। আসলে তা মোটেও সহজ নয়। প্রুফ রিডিং কেবল টেকনিক্যাল জ্ঞানের বিষয় নয়, এটা একটা বিশেষ আর্ট, জ্ঞানের চেয়ে দক্ষতা ও নিপুণতা এ কাজে অধিক আবশ্যক।’ তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটিশদের শাসনাধীন থাকায় এ সময় সংবাদপত্র সম্পাদনার ক্ষেত্রে মানহানি বা রাষ্ট্রদ্রোহ এড়াতে সম্পাদনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হতো।

আবুল মনসুর আহমদ যেসব সংবাদপত্রে কাজ করেছেন, সেখানে সম্পাদকীয় বিভাগকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন। তিনি ‘মোহম্মদী’তে ‘রক্তচক্ষু’ ‘বজ্রমুষ্টি’ ও ‘সিংহনিনাদ’ উদ্দীপনা সৃষ্টি করেন। বিভিন্ন সংবাদপত্রে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অর্থসংকট, মালিকের বৈরী আচরণ, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের শিকার হন। কিন্তু সম্পাদক হিসেবে নীতির প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। আবুল মনসুর আহমদের শিক্ষা হলো যেকোনো বৈরী পরিস্থিতিতে সম্পাদনা পর্ষদকে পেশাগত উৎকর্ষ ধরে রাখতে হবে, অবিচল থাকতে হবে। সংকটে নিজেকে চিনে নিতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে আপন গন্তব্যে।

আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিকতার হাতেখড়ি পর্যায় পেরিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৯৩৮ সালে দৈনিক ‘কৃষক’-এ প্রধান সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। ‘কৃষক’ চালাতে গিয়ে একপর্যায়ে অর্থাভাবে পড়েন। ‘কৃষক’-এ তিনি সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা, সংবাদশিল্পী, সংবাদ-বাণিজ্য—সব দিক সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন।

‘কৃষক’-এ আবুল মনসুর আহমদ ছাপাখানার আধো অন্ধকার পরিবেশ, গরমের মধ্যে কম্পোজিটর, মেশিনম্যানের কাঁধের কাছে দাঁড়িয়ে কাজ দেখতেন। কম্পোজিটররা সংকীর্ণ ও আলো-বাতাসহীন কুঠুরিতে বসে দিনরাত সিসা হাতিয়ে কীভাবে শরীর, স্বাস্থ্য ও চোখ নষ্ট করছে, তা দেখে তিনি শিহরিত হতেন। প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, অভাব দূর হলে তাঁদের জন্য দু-চারটা ফ্যানের ব্যবস্থা করবেন। ‘কৃষক’-এ পারেননি, তবে পরবর্তীকালে অন্যত্র তা করেছেন। সহকর্মীদের ব্যাপারে তাঁর ভেতর এক সংবেদনশীল মনের সন্ধান পাওয়া যায়।

‘কৃষক’-এ একটি বড় বিতর্ক ওঠে—খবরের কাগজ কার মতানুসারে চলবে: মালিক, না সম্পাদকের? আবুল মনসুর আহমদ সম্পাদকীয় লেখেন—‘মালিকের মত চলবে’। যাঁর টাকা তাঁর কর্তব্য। সাংবাদিক সে ক্ষেত্রে মালিককে সদুপদেশ দিতে পারেনমাত্র। মালিক যদি সে উপদেশ না রাখেন, তবে সাংবাদিককে কাগজের মালিকের কথা লিখতে হবে। আবুল মনসুর আহমদের এ বক্তব্যের ভেতর হতাশার সুর পাওয়া যায়। কারণ, সংবাদপত্র প্রকাশের ব্যাপারে সম্পাদকের মত চূড়ান্ত হওয়া উচিত।

বাংলা ভাষায় সংবাদপত্র বিকাশের ক্ষেত্রে হিন্দু সম্প্রদায়ের আধিপত্য নানাভাবে তাঁর লেখায় উঠে এসেছে। মুসলমানদের পক্ষে সংবাদপত্র প্রকাশ করা বা সাংবাদিকতায় চাকরি পাওয়া দুরূহ ছিল। শুধু তা-ই নয়, হিন্দুদের দ্বারা পরিচালিত সংবাদপত্রগুলো মুসলমানদের সংবাদপত্রের প্রকাশ ও প্রচারের ব্যাপারে কত সমালোচনাত্মক ছিল, তা-ও লিখেছেন।

মুসলমান সমাজের অনগ্রসরতা আবুল মনসুর আহমদকে ভাবিয়েছে। তিনি পিছিয়ে পড়া মুসলমান যুবকদের সাংবাদিকতায় আসতে প্রণোদনা দিয়েছেন, সফলও হয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এই উদ্দেশ্যে আমাকে বেশ খুঁজিয়া-পাতিয়া অজ্ঞাত মুসলিম ট্যালেন্ট বাহির করিতে হইয়াছে।’ সাংবাদিকতায় মুসলমান শিক্ষিত যুবকদের সম্পৃক্ততার ফলে বিশ শতকের বিশের দশকে বাংলার মুসলিম মানসের যে জাগরণ ঘটে, তা বিশেষ গতি পায়।

আবুল মনসুর আহমদ তাঁর জীবদ্দশায় সংবাদপত্র প্রকাশনা যে শিল্পে পরিণত হতে যাচ্ছে, তা লক্ষ করেন। তিনি লেখেন, ‘১৯৪৭ সালে সাংবাদিকতা হইয়া উঠিয়াছিল একটি পূর্ণমাত্রার ইন্ডাস্ট্রি। সাহিত্য শাখা, মহিলা শাখা, শিশু শাখা, সিনেমা শাখা, নগর পরিক্রমা ও খেলাধুলা ইত্যাদি বিভিন্ন ফিচার দিয়া আজকাল দৈনিক খবরের কাগজকে রীতিমতো আকর্ষণীয় পঠিতব্য সাহিত্য করিয়া তোলা হইয়াছে। সকল বিভাগের পৃথক-পৃথক সম্পাদক আছেন। কাজেই দৈনিক সংবাদপত্রের আর এখন একজন মাত্র সম্পাদক নাই, বহু-সংখ্যক সম্পাদক হইয়াছেন।’

সময়ের পরিক্রমায় সংবাদপত্র আমূলে বদলে গেছে। পাঠকের বহুমুখী চাহিদা, পাঠকসংযুক্তি, প্রযুক্তির সংযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্তর্ভুক্তি সংবাদপত্রকে গতিশীল করেছে। সংবাদপত্র যে গতিশীল সত্তা, আবুল মনসুর আহমদ তা অনেক আগে চিহ্নিত করেছেন এবং পরিবর্তনের সূত্রগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন।
আবুল মনসুর আহমদ দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে ‘ইত্তেহাদ’ দাঁড় করান। তিনি ‘ইত্তেহাদ’-এ সাংবাদিকদের হাতে-কলমে শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। প্রতিদিন সম্পাদকীয় টেবিলে আলাপ-আলোচনা, পাঠক মজলিশ, হেডলাইন, ডিসপ্লে, মেকআপ, গেটআপ, টাইপ বিতরণ, প্রুফ রিডিংয়ের ফলে ‘ইত্তেহাদ’ অতিদ্রুত কলকাতায় শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় দৈনিকে পরিণত হয়।

মূলত সার্কুলেশনের কারণে ‘ইত্তেহাদ’-এর শক্র বেড়ে যায়। পূর্ব বাংলার সরকার ‘ইত্তেহাদ’ প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করলে ১৯৫০ সালে তার অপমৃত্যু ঘটে। এরপর আবুল মনসুর আহমদ ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি কাগজে কলাম লিখে সাংবাদিকতা চালিয়ে নেন। আবুল মনসুর আহমদ তাঁর আত্মকথায় সাংবাদিকতা জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সাতটি বর্গে ভাগ করেছেন, সেগুলো হলো—

১. সাংবাদিকতা নিছক সংবাদ সরবরাহ নয়, সংবাদের সুষ্ঠু ব্যাখ্যাও বটে।
২. সাংবাদিকতার সাথে রাজনীতি ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। রাজনীতিতে পার্টিগত শ্রেণিগত মতভেদ অপরিহার্য। কিন্ত এ মতভেদ সত্ত্বেও সাধু সাংবাদিকতা সম্ভব।
৩. বিরুদ্ধ পক্ষকে অভদ্র কটূক্তি না করিয়াও তার তীব্র সমালোচনা করা যাইতে পারে ভদ্রভাষায়। বস্তুত সমালোচনার ভাষা যত বেশি ভদ্র হইবে, সমালোচনা তত তীক্ষ্ণ ও ফলবতী হইবে।
৪. প্রতিটি মতবাদের সুষ্ঠু, উদার, বৈজ্ঞানিক ও নিরপেক্ষ আলোচনার দ্বারা নিজের মতের পক্ষে এবং বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে জনমত তৈয়ার করা অধিকতর সহজসাধ্য।
৫. মরহুম মৌলভি মুজিবর রহমান বলিতেন: সংবাদপত্রের কেবলমাত্র সম্পাদকীয় কলামটাই সম্পাদকের; বাকি সবটুকুই পাবলিকের। চিঠিপত্র কলামটা টাউন হল, সম্পাদকের বৈঠকখানা নয়। অতএব সংবাদ প্রকাশে নিরপেক্ষতা চাই। স্বয়ং সম্পাদকের নিন্দাপূর্ণ পত্রও চিঠিপত্র কলামে ছাপিতে হইবে।
৬. সাংবাদিকতা সাহিত্য, আর্ট, সায়েন্স, ইন্ডাস্ট্রি ও কমার্সের সমবায়। এর একটার অভাব হইলে সাংবাদিকতা ত্রুটিপূর্ণ এবং পরিণামে নিষ্ফল হইবে।
৭. বিখ্যাত সাহিত্যিক থেচারে বলিয়াছেন: ছাপার মেশিনের মতো সংবাদপত্র নিজেও একটা ইঞ্জিন। সকল যন্ত্রপাতির ঐক্য ও সংহতি অন্যান্য ইঞ্জিনের মতো প্রেসইঞ্জিনেরও অত্যাবশ্যক বটে, কিন্তু তার উপরেও প্রেসইঞ্জিনে দরকার ইন্টেলেকচুয়াল ইউনিটি।

আবুল মনসুর আহমদ উল্লেখ করেন, এই সাতটি দফা ছিল তাঁর জন্য সাংবাদিকতার ক, খ। তাঁর অনুসৃত দফাগুলো আজও প্রাসঙ্গিক ও অনুসরণযোগ্য। আবুল মনসুর আহমদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি অতল শ্রদ্ধা।