ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য কী বার্তা বহন করছে?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ৬৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের একটি বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

তার বক্তব্যের পর বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে সরকারের ব্যবহৃত কৌশল, দলটির নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ন্যায্যতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে নতুন করে চর্চা হতে দেখা যাচ্ছে।

কিন্তু আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ড. আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য আসলে ঠিক কী অর্থ বহন করছে?

নির্বাচনে আনার জন্য বিএনপি নেতাদের কারাগার থেকে মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে সম্প্রতি বাংলাদেশের স্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে জানান ড. রাজ্জাক।

প্রয়োজন মনে করলে দল ড. রাজ্জাকের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

যদিও মঙ্গলবার পর্যন্ত এ ব্যাপারে দলের শীর্ষ পর্যায়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

“এ ব্যাপারে দল এখনও কোনও আলোচনা করেনি। সবাই এখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত”, বিবিসিকে বলেন মিস্টার নাছিম।

এদিকে, ড. রাজ্জাকের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

“উনার বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকৃত সত্যটা বের হয়ে আসলো”, বিবিসি বাংলাকে বলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ।

কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য সত্যি হয়ে থাকলে সেটি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে “প্রশ্নবিদ্ধ” করবে বলে মনে করছেন আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রাশেদা রওনক খান।

আর সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, “সরকার তার ক্ষমতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যেভাবে ব্যবহার করছে, তাতে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহার করা হচ্ছে।”

কৃষিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
নিজ দলসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার মুখে সোমবার নিজ বক্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

“আমার বক্তব্য এই যে, আওয়ামী লীগ আন্তরিকভাবে চেয়েছে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। এ কথাটা বলতে গিয়ে আমি সেদিন কিছু কথাবার্তা বলেছি”, বলেন মিস্টার রাজ্জাক।

তিনি আরও বলেন, “বহুবার আমি বলেছি বিএনপি অবশ্যই একটি বড় রাজনৈতিক দল। তাদের নির্বাচনে আমরা আনতে চাই, কিন্তু সংবিধানের বাইরে আমাদের যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই।”

“আমার কথার এসেন্সটাই (সারমর্ম) ছিল, প্রধানমন্ত্রী ও আমরা সব সময় চেয়েছি, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। সেটা বলতে গিয়ে বলেছি আমরা কতোদূর পর্যন্ত… নির্বাচন কমিশনার কথা বলেছি।….আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি।”

বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, “আমি বহুবার বলেছি বিএনপি নেতাদের হুকুম ছাড়া কোনো কর্মী কি বাসে আগুন দেবে?… যারা সন্ত্রাস করছে, সন্ত্রাসের হুকুম দিচ্ছে, সন্ত্রাসের পরিকল্পনা করছে, লন্ডন থেকে যারা নির্দেশ দিচ্ছে, এই সন্ত্রাসের জন্যই সরকার বাধ্য হয়েছে গ্রেফতার করতে।”

নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মিস্টার রাজ্জাক গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপি নেতাদের তাৎক্ষণিকভাবে ছেড়ে দেওয়া হবে, বিষয়টি এমন নয়। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো।

“তারা (বিএনপি) যদি নির্বাচনে আসত, নির্বাচনে আসলে স্বীকার করে নিল। তখন সন্ত্রাস করার দরকার নেই। সহিংসতা-আগুন সন্ত্রাসের দরকার নেই। তখন এমনিতেই শান্তি হতো”, বলেন ড. রাজ্জাক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য কী বার্তা বহন করছে?

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩

বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের একটি বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

তার বক্তব্যের পর বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে সরকারের ব্যবহৃত কৌশল, দলটির নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ন্যায্যতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে নতুন করে চর্চা হতে দেখা যাচ্ছে।

কিন্তু আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ড. আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য আসলে ঠিক কী অর্থ বহন করছে?

নির্বাচনে আনার জন্য বিএনপি নেতাদের কারাগার থেকে মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে সম্প্রতি বাংলাদেশের স্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে জানান ড. রাজ্জাক।

প্রয়োজন মনে করলে দল ড. রাজ্জাকের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

যদিও মঙ্গলবার পর্যন্ত এ ব্যাপারে দলের শীর্ষ পর্যায়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

“এ ব্যাপারে দল এখনও কোনও আলোচনা করেনি। সবাই এখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত”, বিবিসিকে বলেন মিস্টার নাছিম।

এদিকে, ড. রাজ্জাকের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

“উনার বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকৃত সত্যটা বের হয়ে আসলো”, বিবিসি বাংলাকে বলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ।

কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য সত্যি হয়ে থাকলে সেটি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে “প্রশ্নবিদ্ধ” করবে বলে মনে করছেন আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রাশেদা রওনক খান।

আর সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, “সরকার তার ক্ষমতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যেভাবে ব্যবহার করছে, তাতে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহার করা হচ্ছে।”

কৃষিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
নিজ দলসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার মুখে সোমবার নিজ বক্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

“আমার বক্তব্য এই যে, আওয়ামী লীগ আন্তরিকভাবে চেয়েছে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। এ কথাটা বলতে গিয়ে আমি সেদিন কিছু কথাবার্তা বলেছি”, বলেন মিস্টার রাজ্জাক।

তিনি আরও বলেন, “বহুবার আমি বলেছি বিএনপি অবশ্যই একটি বড় রাজনৈতিক দল। তাদের নির্বাচনে আমরা আনতে চাই, কিন্তু সংবিধানের বাইরে আমাদের যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই।”

“আমার কথার এসেন্সটাই (সারমর্ম) ছিল, প্রধানমন্ত্রী ও আমরা সব সময় চেয়েছি, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। সেটা বলতে গিয়ে বলেছি আমরা কতোদূর পর্যন্ত… নির্বাচন কমিশনার কথা বলেছি।….আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি।”

বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, “আমি বহুবার বলেছি বিএনপি নেতাদের হুকুম ছাড়া কোনো কর্মী কি বাসে আগুন দেবে?… যারা সন্ত্রাস করছে, সন্ত্রাসের হুকুম দিচ্ছে, সন্ত্রাসের পরিকল্পনা করছে, লন্ডন থেকে যারা নির্দেশ দিচ্ছে, এই সন্ত্রাসের জন্যই সরকার বাধ্য হয়েছে গ্রেফতার করতে।”

নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মিস্টার রাজ্জাক গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপি নেতাদের তাৎক্ষণিকভাবে ছেড়ে দেওয়া হবে, বিষয়টি এমন নয়। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো।

“তারা (বিএনপি) যদি নির্বাচনে আসত, নির্বাচনে আসলে স্বীকার করে নিল। তখন সন্ত্রাস করার দরকার নেই। সহিংসতা-আগুন সন্ত্রাসের দরকার নেই। তখন এমনিতেই শান্তি হতো”, বলেন ড. রাজ্জাক।