ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম... সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...

অর্থ পাচার রোধে দেশে আইন আছে, ঘাটতি প্রয়োগে: টিআইবি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৭:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৩ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

বিদেশে অর্থ পাচার রোধ ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে দেশে আইনগত অগ্রগতি হয়েছে। তবে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে সরকারের উদ্যোগে ঘাটতি রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করা হয়েছে।

আজ বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির সম্মেলনকক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘জাতিসংঘ দুর্নীতিবিরোধী সনদের দ্বিতীয় ও পঞ্চম অধ্যায় বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি, আনকা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের সহায়ক হিসেবে টিআইবির প্রতিবেদন’ উপস্থাপন উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল। উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শেখ মনজুর-ই-আলম ও গবেষক ফাতেমা আফরোজ।

বাংলাদেশ ২০০৭ সালে জাতিসংঘ দুর্নীতিবিরোধী সনদে (আনকা) সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। আনকা সনদে দুর্নীতিবিরোধী মোট ছয়টি অধ্যায় আছে। এর মধ্যে গত ২০১১ সালে সনদের ৩ ও ৪ নম্বর অধ্যায় নিয়ে সরকারের কার্যক্রম ও তার পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছিল টিআইবি। এই দুটি অধ্যায়ের বিষয় ছিল—অপরাধ দমন ও আইনগত প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। এবার সনদের দ্বিতীয় ও পঞ্চম অধ্যায় নিয়ে
প্রতিবেদন উপস্থাপন করল টিআইবি।

প্রতিবেদন সম্পর্কে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাধারণত সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধ নিয়ে তাদের কার্যক্রমের আত্মসমালোচনামূলক প্রতিবেদন তৈরি করে। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্ক জানাতে টিআইবি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর পাশাপাশি টিআইবি নিজ উদ্যোগে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম ও বাস্তব অবস্থা নিয়ে গবেষণামূলক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এই প্রতিবেদনের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতিসংঘ দুর্নীতিবিরোধী আনকা সনদ বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ, সফলতা, চ্যালেঞ্জ ও সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করে সুপারিশমালা তৈরি করা।

টিআইবির দীর্ঘ প্রতিবেদনে সনদের দুই ও পাঁচ নম্বর অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত বিষয়সহ তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ, অগ্রগতি ও বাধা তুলে ধরা হয়। বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অর্থ পাচার ও পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, উদ্যোগ, জনসাধারণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিগম্যতা, সরকারি ক্রয়, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি প্রতিরোধ, রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা, সরকারি নিয়োগ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত-স্বচ্ছ রাখা, সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণবিধি ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সার্বিক মূল্যায়ন করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ক্ষেত্রে দুটি দিক আছে। আইনগত বাস্তবায়ন ও প্রায়োগিক বাস্তবায়ন। গবেষণায় পাওয়া তথ্যে তাঁরা দেখেছেন, আইনগত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মোটামুটি অগ্রগতি আছে। বেশ কিছু আইন তৈরি করা হয়েছে। সার্বিকভাবে বিষয়টি ইতিবাচক। তবে অধিকাংশ বিষয়ে প্রায়োগিক ক্ষেত্রে অগ্রগতি একেবারেই নিম্ন পর্যায়ে। আইন থাকলেও দুর্নীতি দমন কমিশন প্রত্যাশিত মানে কাজ করতে পারছে না। বিশেষ করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক যোগসূত্র আছে—এমন লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দৃষ্টান্ত তেমন নেই। একইভাবে বিদেশে অর্থ পাচার রোধে ব্যবস্থা নেওয়া, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, এ জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া, দুর্নীতি দমন নীতিমালা কার্যকর করা, সরকারি খাত ও রাজনৈতিক অর্থায়ন—এসব বিষয়ে আইনের প্রায়োগিক বাস্তবায়ন নিম্ন পর্যায়ে। মূলত এসব আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ, সদিচ্ছা, সমন্বয় ও সক্ষমতারও ঘাটতি রয়েছে।

প্রতিবেদনে গবেষণার আলোকে উল্লেখিত বিষয়ের অগ্রগতির জন্য ১৬টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুদকের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত রাখা। মানি লন্ডারিং আইন সংশোধন করা। সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ ও তাঁদের সম্পদের বার্ষিক বিবরণ জমা দেওয়া নিশ্চিত করা। ক্রয়প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখা। সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা। তথ্য অধিগম্যতা নিশ্চিত করা। জাতীয় পর্যায়ে খাতভিত্তিক ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠা করা প্রভৃতি।

প্রতিবেদন সম্পর্কে সুলতানা কামাল বলেন, ‘সমাজে দুর্নীতির প্রভাব বাড়ছে। আমরা একটা অস্বস্তিকর, সংকটাপন্ন অবস্থার ভেতরে রয়েছি। সরকারের দায়–দায়িত্ব রয়েছে নাগরিকদের এই অবস্থা থেকে মুক্ত করা। টিআইবির পক্ষ থেকে গবেষণা করে দুর্নীতি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আমরা এই প্রতিবেদন তৈরি করেছি। এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা হলো। কারণ, জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এটা দুর্নীতি দমনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডিবির হারুন বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং সদস্যদের সঙ্গে জড়িত ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছৈ। তাদের গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওয়ারী ও গুলশান বিভাগ। গ্রেফতারদের মধ্যে বেশিরভাগ কিশোর গ্যাং সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে। তিনি জানান, গ্রেফতাররা বাড্ডা, ভাটারা, তুরাগ, তিনশ ফিট ও যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় টার্গেট করা ব্যক্তিদের ইভটিজিং বা কোনো সময় ধাক্কা দেওয়ার ছলে উত্ত্যক্ত করত। এরপর তারা ঘেরাও করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোবাইলফোন এবং নারীদের কাছ থেকে সোনার অলঙ্কার ছিনিয়ে নিত। এ ছাড়া তারা ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও চুরির সঙ্গে জড়িত। এসব গ্যাং সদস্য মাদক কারবারের সঙ্গেও জড়িত। ডিবি হারুন জানান, গ্রেফতার কিশোর গ্যাং সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে কিছু কথিত বড় ভাইয়ের নাম পাওয়া গেছে। বড় ভাইদেরও গ্রেফতার করা হবে। কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে ডিবির প্রতিটি টিম কাজ করছে।

অর্থ পাচার রোধে দেশে আইন আছে, ঘাটতি প্রয়োগে: টিআইবি

আপডেট সময় : ০৬:১৭:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৩

বিদেশে অর্থ পাচার রোধ ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে দেশে আইনগত অগ্রগতি হয়েছে। তবে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে সরকারের উদ্যোগে ঘাটতি রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করা হয়েছে।

আজ বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির সম্মেলনকক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘জাতিসংঘ দুর্নীতিবিরোধী সনদের দ্বিতীয় ও পঞ্চম অধ্যায় বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি, আনকা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের সহায়ক হিসেবে টিআইবির প্রতিবেদন’ উপস্থাপন উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল। উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শেখ মনজুর-ই-আলম ও গবেষক ফাতেমা আফরোজ।

বাংলাদেশ ২০০৭ সালে জাতিসংঘ দুর্নীতিবিরোধী সনদে (আনকা) সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। আনকা সনদে দুর্নীতিবিরোধী মোট ছয়টি অধ্যায় আছে। এর মধ্যে গত ২০১১ সালে সনদের ৩ ও ৪ নম্বর অধ্যায় নিয়ে সরকারের কার্যক্রম ও তার পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছিল টিআইবি। এই দুটি অধ্যায়ের বিষয় ছিল—অপরাধ দমন ও আইনগত প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। এবার সনদের দ্বিতীয় ও পঞ্চম অধ্যায় নিয়ে
প্রতিবেদন উপস্থাপন করল টিআইবি।

প্রতিবেদন সম্পর্কে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাধারণত সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধ নিয়ে তাদের কার্যক্রমের আত্মসমালোচনামূলক প্রতিবেদন তৈরি করে। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্ক জানাতে টিআইবি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর পাশাপাশি টিআইবি নিজ উদ্যোগে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম ও বাস্তব অবস্থা নিয়ে গবেষণামূলক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এই প্রতিবেদনের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতিসংঘ দুর্নীতিবিরোধী আনকা সনদ বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ, সফলতা, চ্যালেঞ্জ ও সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করে সুপারিশমালা তৈরি করা।

টিআইবির দীর্ঘ প্রতিবেদনে সনদের দুই ও পাঁচ নম্বর অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত বিষয়সহ তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ, অগ্রগতি ও বাধা তুলে ধরা হয়। বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অর্থ পাচার ও পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, উদ্যোগ, জনসাধারণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিগম্যতা, সরকারি ক্রয়, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি প্রতিরোধ, রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা, সরকারি নিয়োগ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত-স্বচ্ছ রাখা, সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণবিধি ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সার্বিক মূল্যায়ন করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ক্ষেত্রে দুটি দিক আছে। আইনগত বাস্তবায়ন ও প্রায়োগিক বাস্তবায়ন। গবেষণায় পাওয়া তথ্যে তাঁরা দেখেছেন, আইনগত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মোটামুটি অগ্রগতি আছে। বেশ কিছু আইন তৈরি করা হয়েছে। সার্বিকভাবে বিষয়টি ইতিবাচক। তবে অধিকাংশ বিষয়ে প্রায়োগিক ক্ষেত্রে অগ্রগতি একেবারেই নিম্ন পর্যায়ে। আইন থাকলেও দুর্নীতি দমন কমিশন প্রত্যাশিত মানে কাজ করতে পারছে না। বিশেষ করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক যোগসূত্র আছে—এমন লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দৃষ্টান্ত তেমন নেই। একইভাবে বিদেশে অর্থ পাচার রোধে ব্যবস্থা নেওয়া, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, এ জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া, দুর্নীতি দমন নীতিমালা কার্যকর করা, সরকারি খাত ও রাজনৈতিক অর্থায়ন—এসব বিষয়ে আইনের প্রায়োগিক বাস্তবায়ন নিম্ন পর্যায়ে। মূলত এসব আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ, সদিচ্ছা, সমন্বয় ও সক্ষমতারও ঘাটতি রয়েছে।

প্রতিবেদনে গবেষণার আলোকে উল্লেখিত বিষয়ের অগ্রগতির জন্য ১৬টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুদকের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত রাখা। মানি লন্ডারিং আইন সংশোধন করা। সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ ও তাঁদের সম্পদের বার্ষিক বিবরণ জমা দেওয়া নিশ্চিত করা। ক্রয়প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখা। সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা। তথ্য অধিগম্যতা নিশ্চিত করা। জাতীয় পর্যায়ে খাতভিত্তিক ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠা করা প্রভৃতি।

প্রতিবেদন সম্পর্কে সুলতানা কামাল বলেন, ‘সমাজে দুর্নীতির প্রভাব বাড়ছে। আমরা একটা অস্বস্তিকর, সংকটাপন্ন অবস্থার ভেতরে রয়েছি। সরকারের দায়–দায়িত্ব রয়েছে নাগরিকদের এই অবস্থা থেকে মুক্ত করা। টিআইবির পক্ষ থেকে গবেষণা করে দুর্নীতি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আমরা এই প্রতিবেদন তৈরি করেছি। এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা হলো। কারণ, জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এটা দুর্নীতি দমনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।’